বিশ্বকাপ ঘরে, আনন্দে রাস্তায় গোটা স্পেন! ট্রফি হাতে ফিরতেই লাল হলুদ উৎসব

0



লাল-হলুদ পতাকার ঢেউ, আকাশজোড়া উল্লাস আর একটাই স্লোগান— চ্যাম্পিয়ন-চ্যাম্পিয়ন।মনে হচ্ছিল, যেন গোটা মাদ্রিদই নেমে এসেছে রাস্তায়। বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি হাতে দেশে ফিরতেই স্পেনের ফুটবলারদের জন্য যে অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছিল, তা ছিল রাজকীয়ও, আবার আবেগে ভরপুরও। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার- সর্বত্র শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন।


নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পর সোমবার মাদ্রিদে পৌঁছায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। বিমানবন্দর থেকেই লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসদের অভিনন্দন জানাতে হাজির ছিলেন হাজার হাজার সমর্থক। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি ভুলে ফুটবলাররাও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। এরপর সারসুয়েলা প্রাসাদে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা। রাজা বলেন, ‘এই ট্রফি শুধু একটা দলের নয়, গোটা স্পেনের গর্ব’। পরে মোনক্লোয়া প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষ হতেই শুরু হয় সেই বহুল প্রতীক্ষিত বিজয়যাত্রা। ছাদখোলা বাসে রাজধানী ঘোরেন ইয়ামালরা। রাস্তার দু’ধারে স্প্যানিশ পতাকা হাতে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ঢল।

সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এই চ্যাম্পিয়ন প্যারেডের সাক্ষী থাকতে মাদ্রিদের রাস্তায় নেমেছিলেন। গান, নাচ, আতশবাজি আর করতালিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন থমকে গিয়েছিল শহর। সিবেলেস স্কোয়ারে উৎসবের মঞ্চে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের অন্যতম সেরা গর্ব। এই ২৬ জন শুধু অসাধারণ ফুটবলার নন, অসাধারণ মানুষও। আমরা একসঙ্গে ছিলাম বলেই বিশ্বসেরা হতে পেরেছি।’ এই বিশ্বজয়ের সঙ্গে ইতিহাসও লিখেছে স্পেন। ২০২৩ সালে মহিলা বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার পুরুষদের বিশ্বকাপও নিজেদের দখলে এনে একই সময়ে দুই বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার বিরল নজির গড়েছে তারা। তাই মাদ্রিদের এই উৎসব শুধু একটি ট্রফি জয়ের আনন্দ নয়, স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন স্বর্ণযুগের সেলিব্রেশনও।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *