টেনে-হিঁচড়ে বিধানসভার বাইরে কুণাল ঘোষ! দুই তৃণমূলের দ্বৈরথে তোলপাড়…
একুশের দুই পাল্টা সভার উত্তাপ যে এত দ্রুত বিধানসভার অন্দরেও পৌঁছে যাবে, তা বোধহয় কেউ ভাবেননি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তৃণমূলের সংঘাত এবার গড়াল বিধানসভার ওয়েলে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, তুমুল হট্টগোল, মার্শালের হস্তক্ষেপ-সব মিলিয়ে বুধবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিধানসভা। ঘটনার সূত্রপাত স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনার সময়। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠতেই তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান বেলেঘাটার কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কুণালের অভিযোগ, ঋতব্রত শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা মুখ্য সচেতকের দফতর ইচ্ছাকৃতভাবে কালীঘাটপন্থী বিধায়কদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দিচ্ছে না। বক্তার তালিকা থেকে তাঁদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বারবার আখরুজ্জামানকে প্রশ্ন করেন, ‘আমার নাম কেটে দিচ্ছেন কেন? আমাকে বলতে দিচ্ছেন না কেন?’ সে সময় আখরুজ্জামানের পাশে ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও জাভেদ খান। মুহূর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ওয়েলে নেমে আসেন একাধিক বিধায়ক। বিজেপি বিধায়কেরাও এগিয়ে এলে তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যান পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। পরে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু একাধিকবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা মানেননি। শেষ পর্যন্ত মার্শাল ডেকে তাঁকে অধিবেশন কক্ষের বাইরে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। মার্শালদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মধ্যে মেঝেতে পড়েও যান কুণাল। পরে তাঁকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়করা ওয়াকআউট করেন।
এরপর শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁকে দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়, শুধু দিনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করাই যথেষ্ট। তাঁর কথায়, ‘এমন অসভ্যতামি বিধানসভায় আগে দেখিনি। আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। আখরুজ্জামান সাহেবকে কার্যত শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে যাওয়া হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা করছি। ওকে সাসপেন্ড করে বিখ্যাত করার দরকার নেই।’ পরে ধ্বনি ভোটে কুণাল ঘোষকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়।
২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক তরজা যে এখনও থামেনি, তারই নতুন অধ্যায় যেন লেখা হল বিধানসভার অন্দরে। এবার সংঘাত শুধু মঞ্চে নয়, আইনসভার মধ্যেও প্রকাশ্যে চলে এল দুই তৃণমূলের ক্ষমতার টানাপোড়েন।
