‘কলকাতায় ফিরেছি বলতে ১৯ বছর লাগল’! আবেগের মঞ্চে বাকস্বাধীনতার বার্তা তসলিমার
প্রায় দু’দশক পর কলকাতায় ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্র সদনে নাগরিক সংবর্ধনা গ্রহণের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কলকাতায় ফিরে এসেছি—এই একটি বাক্য বলতে আমার ১৯ বছর লেগে গেল।’ দীর্ঘ নির্বাসনের যন্ত্রণা, প্রিয় শহর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কষ্ট এবং বাক্স্বাধীনতার প্রশ্নই উঠে এল তাঁর বক্তব্যে।
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার স্মৃতি মনে করে তসলিমা বলেন, আগস্ট তাঁর জীবনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মাস। এই মাসেই তাঁর জন্ম, নির্বাসনের শুরু এবং এবার প্রত্যাবর্তন। ইউরোপ তাঁকে নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব দিলেও ভাষা, সংস্কৃতি ও আপনজনের টান যে কলকাতার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে, তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা বলেন, ‘আমি কোনও অপরাধ করিনি, কোনও আদালত আমাকে সাজা দেয়নি। একজন লেখককে নিজের ভাষার শহরে আসতে পুলিশ পাহারার প্রয়োজন হওয়া আমাদের সময়ের এক বেদনাদায়ক সত্য।’ এরপরই তাঁর মন্তব্য, ‘ইতিহাস মনে রাখে, কারা দরজা বন্ধ করেছিল, কারা খুলল।’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘এই কৃতজ্ঞতা কোনও আনুগত্য নয়।’

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তসলিমার হাতে পুষ্পস্তবক ও স্মারক তুলে দেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে এবং তসলিমা নাসরিন যতবার ইচ্ছা কলকাতায় আসতে পারবেন। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কল্যাণ চক্রবর্তী, তথাগত রায়-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে অবশ্য আশাবাদী নন তসলিমা। তাঁর কথায়, ‘এ জন্মে আর বাংলাদেশে ফিরতে পারব বলে মনে হয় না।’ তবে কলকাতার দরজা আবার খুলে যাওয়ায় তিনি আশাবাদী, আগামী দিনে আরও ঘনঘন এই শহরে আসতে পারবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে বাক্স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করল।

