‘দেশের খাবার খান,প্রতিবেশী দেশের হয়ে লড়েন’,নাসিরুদ্দিনকে ‘খেঁকশিয়াল’ বলে কটাক্ষ কঙ্গনার

0



ফের বিতর্কের মাঝে অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত।দিল্লির যন্তর-মন্তরে নিট দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে সরব হয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।সেই সময় বলিউড তারকাদের নীরবতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা। প্রতিবাদের পর তাঁর পুরনো একটি কথাকে টেনে নিয়ে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা পীযূষ মিশ্র। অভিনেতার কথায় ইন্ধন জুগিয়ে এ বার মুখ খুললেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। নাসিরুদ্দিনের দেশপ্রেম ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ‘লোমড়ি’ অর্থাৎ ‘খেঁকশিয়াল’ বলে কটাক্ষ করেছেন অভিনেত্রী।

ঘটনার সূত্রপাত একটি পুরনো মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দিল্লিতে সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে হওয়া ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানায়েছিলেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।পাশাপাশি তারকাদের নীরব থাকা নিয়েও মুখ খুলেছিলেন তিনি।বলেন,”মুখে হাড় থাকলে কুকুর যেমন ঘেউ ঘেউ করতে পারে না, তেমনই তারকারাও নিজেদের বিবেক না বলা পর্যন্ত মুখ খোলেন না।” নাসিরুদ্দিনের সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেই তাঁকে প্রশ্ন করেন অভিনেতা পীযূষ মিশ্র।তিনি বলেন,”নাসির সাহেব, সিজেপি প্রতিবাদের সময় আপনি বলেছিলেন, যেসব কুকুরের মুখে হাড় থাকে, তারা কথা বলতে পারে না। ক্ষমা করবেন, তবে আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। এই মুহূর্তে সেই কুকুরগুলো কারা, যাদের মুখে হাড় রয়েছে এবং যারা জেপিএসসি পেপার লিকের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে কোনও কথা বলছেন না?”



এ বার সেই মন্তব্যেই তাল মিলিয়ে মুখ খুললেন কঙ্গনা।সোশ্যাল মিডিয়ায় পীযূষের এই প্রশ্নকে তুলে ধরেই তিনি লেখেন,”নাসির সাহেব নিজের দেশের খাবার খান, কিন্তু প্রতিবেশী দেশের হয়ে লড়েন।” অর্থাৎ নাসিরুদ্দিনের অবস্থান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ।এরপরই আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কঙ্গনা। নাসিরুদ্দিন শাহের ‘কুকুর’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান,বর্তমান সময়ে কোনও মানুষকে কুকুর বলা নাকি প্রশংসারই বিষয়। কারণ তাঁর মতে, আনুগত্য ও সারল্য এখন বিরল। তাঁর বক্তব্য,‘‘আজকের সময়ে কোনও মানুষকে কুকুর বলা বরং প্রশংসার,কারণ আনুগত্য ও সারল্য বিরল। নাসিরুদ্দিনের মতো খেঁকশিয়াল  হওয়ার চেয়ে কুকুর হওয়াই ভালো।”

উল্লেখ্য,ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ২৫ জুলাই থেকে আন্দোলনে নেমেছেন পড়ুয়া এবং সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং অভিযোগের তদন্তের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন আন্দোলনকারীরা।এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্তের দাবিতে তিনি অনশনেও বসেছেন।তবে এই পরিস্থিতিতে নীরব থাকতে দেখা গিয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহকে। সেখান থেকেই শুরু হয় জলঘোলা। তাঁর পুরনো এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তৈরি হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *