সৃজিতের ছবিতে ফেরার প্রস্তুতি! এরইমাঝে বিধায়কের পর গুরুদায়িত্ব পেলেন রুদ্রনীল

0



অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ, রাজনীতি থেকে বিধায়ক- এ বার  আরও বড় দায়িত্ব রুদ্রনীল ঘোষের কাঁধে। তথ্য-সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া-যুব কল্যাণের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হলেন শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা।মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্ল্যাটিনাম জুবিলি হলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানেই দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয় তাঁদের। নতুন সরকারের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার বার্তাও দিয়েছেন রুদ্রনীল। দায়িত্ব পাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে রুদ্রনীল লিখেছেন,‘এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার এবং দলকে ধন্যবাদ’। নতুন সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পালনে তাঁরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই নতুন দায়িত্ব রুদ্রনীলের কাছে বিশেষ তাৎপর্যের। কারণ যে জগত থেকে তাঁর পরিচিতি-সেই বিনোদন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রই এবার তাঁর দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টলিউডের উন্নয়ন থেকে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র, পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ-বিধায়ক হিসেবে এ বার সরাসরি যুক্ত হতে হবে তাঁকে।
আর ঠিক এমন সময়েই সামনে এসেছে রুদ্রনীলের অভিনয়ে ফেরার খবর। বিধায়ক হওয়ার পর একের পর এক ছবির প্রস্তাব এলেও ব্যস্ততার কারণে অনেকগুলিই ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের প্রস্তাব আর ফেরাতে পারেননি। তাঁর আগামী ছবি ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’-এ অভিনয়ের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন রুদ্রনীল। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। ছবির বিষয়বস্তু ঘিরেই তৈরি হয়েছে আরও বড় কৌতূহল। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর তৈরির নেপথ্যের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে সৃজিতের এই ছবি। ফলে প্রশ্ন উঠছে- রুদ্রনীল কি ফের ‘বাঘা’র চরিত্রে দেখা দেবেন? যদিও তাঁর চরিত্র সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু জল্পনা ছড়িয়েছে। অভিনয়ের জগতে তাঁর পুরনো পরিচিতি এবং এই চরিত্র ঘিরে দর্শকের আবেগই সেই কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অথচ একটা সময় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর টলিউডে কার্যত ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন রুদ্রনীল। গত পাঁচ বছরে মাত্র ৭০ দিনের মতো শুটিং করেছেন বলে জানা যায়। তার মধ্যেও ‘হাওয়া বদল’, ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’, ‘ধূমকেতু’র মতো কাজ নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবশ্য বদলেছে তাঁর অবস্থানও। বিজেপির হয়ে শিবপুর থেকে ভোটে জিতে এখন তিনি বিধায়ক। বিধায়ক হওয়ার পর এলাকার কাজেও সক্রিয় রুদ্রনীল। বর্ষায় জমা জলে সাধারণ মানুষের সমস্যা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট পরিষ্কার-বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে নজর দিয়েছেন তিনি। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল আরও বড় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।
একদিকে শিবপুরের মানুষের জন্য কাজ, অন্যদিকে তথ্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া-যুব কল্যাণের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুদায়িত্ব-তারই মাঝখানে আবার ক্যামেরার ডাক। ফলে রুদ্রনীলের জীবনে যেন একইসঙ্গে দু’টি মঞ্চের নতুন অধ্যায় শুরু হল। বিধানসভার দায়িত্ব সামলে তিনি যখন ফের শুটিং ফ্লোরে দাঁড়াবেন, তখন দর্শকের অপেক্ষা শুধু একটাই-অভিনেতা রুদ্রনীল কি আবারও সেই পুরনো জাদু ফিরিয়ে আনতে পারবেন?

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *