কলকাতা ডার্বি লিগে ড্র! বারাসতে বাগান তারকাদের থামিয়ে ডার্বিতে লাল হলুদের জেদ !
ডার্বি মানেই হিসেবের খাতা আলাদা। লিগের অঙ্কে ম্যাচটা হয়তো ছিল নিয়মরক্ষার, কিন্তু বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল নাম দু’টি পাশাপাশি আসতেই গ্যালারিতে ফিরেছিল চেনা উত্তাপ। কয়েক দিন আগের ডুরান্ড ডার্বির হারও সবুজমেরুন সমর্থকদের মনে ছিল। ফলে কলকাতা লিগের এই ম্যাচে বদলার প্রত্যাশাও কম ছিল না। শেষ পর্যন্ত জয় এল না কোনও পক্ষেরই। তবে ১-১ ড্র ম্যাচে লড়াইয়ের গল্পটা লিখে গেল ইস্টবেঙ্গলের তরুণরা।
প্রথমার্ধে মোহনবাগানের দাপটই বেশি ছিল। আইএসএল খেলা একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলারকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল সবুজমেরুন। বলের দখল রেখে আক্রমণ তৈরি করছিল তারা। অন্যদিকে সিনিয়র দলের কাউকে না নামিয়ে তরুণদের উপর ভরসা করেছিল ইস্টবেঙ্গল। শুরুতে তাদের লক্ষ্য ছিল রক্ষণ সামলে সুযোগের অপেক্ষা করা। সেই অপেক্ষার মধ্যেই ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

আপুইয়ার লম্বা বল ধরে জায়গা তৈরি করে নেন মনবীর সিং। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ও গোলকিপারের মধ্যে তৈরি হওয়া ফাঁক কাজে লাগিয়ে গড়ানো শটে বল জালে পাঠান তিনি। ১-০ পিছিয়ে পড়ে লাল হলুদ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য ইস্টবেঙ্গলকে দেখা গেল। গোল খাওয়ার পর আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় অর্চিষ্মান বিশ্বাসের দল। একের পর এক আক্রমণে মোহনবাগানের রক্ষণকে চাপে ফেলে তরুণরা। বিজয় মুর্মু, আকাশ হেমরমদের প্রচেষ্টায় বারবার বিপদ তৈরি হয়। উত্তম হাঁসদার হেড বারে লেগে ফিরে আসে। গোল তখন যেন সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে ৬৩ মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান। বিজয় মুর্মুর কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুরন্ত হেডে গোল করেন মহম্মদ বিলাল। ম্যাচ ১-১। এরপর শেষ বাঁশি পর্যন্ত দু’দলই গোলের চেষ্টা করলেও আর ব্যবধান বদলায়নি। শেষ দিকে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার গৌরব সাউয়ের দুর্দান্ত সেভও দলকে বাঁচায়।

লিগের অঙ্কে অবশ্য ড্রয়ে কোনও বড় পরিবর্তন হল না। ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে ভবানীপুর ক্লাবকে পিছনে ফেলে গ্রুপের শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করল ইস্টবেঙ্গল। ভবানীপুরও ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়। ২৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় মোহনবাগান। দু’দলই আগেই সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছিল। ফলে ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল মূলত মর্যাদা ও মানসিক লড়াইয়ে। আর সেই লড়াইয়ে তারকাখচিত মোহনবাগানকে আটকে দিয়ে ইস্টবেঙ্গলের তরুণরা বুঝিয়ে দিল-ডার্বিতে শুধু অভিজ্ঞতার জোরে ম্যাচ জেতা যায় না, দরকার বুক চিতিয়ে লড়াই করার সাহসও।ছবি সৌজন্যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ও আইএফএ

(Photos courtesy of East Bengal Club and IFA)
