৩৭ পরিবারের চোখে অপেক্ষা, পাশে নবান্ন, দুঃসময়ে নিজের বেতন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী!
ফিরবে। একদিন ফিরবেই। এই আশাতেই দিন গুনছে ঘরগুলি। দরজার দিকে চোখ যায়। ফোন বেজে উঠলেই বুক কেঁপে ওঠে। কিন্তু ওপার থেকে আসে না সেই চেনা গলা। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে বহু দিন। তবু এই রাজ্যের ৩৭টি পরিবারের অপেক্ষা শেষ হয়নি। এই অপেক্ষার মধ্যেই বুধবার নবান্নে নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। পরিবারগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উঠে আসে শুধু প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা নয়, সংসার চালানোর কঠিন প্রশ্নও।

নিখোঁজদের কয়েকজন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। ফলে মানুষটা নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থমকে গিয়েছে সংসারের আয়ও। কোথাও পেনশন তোলা যাচ্ছে না। কোথাও গ্যাস বুকিংয়েও সমস্যা। ব্যাঙ্কের কাজ আটকে রয়েছে। এমন নানা সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান পরিবারের সদস্যরা। সমস্যাগুলি দ্রুত মেটাতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কয়েকটি পরিবারের দায়িত্ব একজন করে আধিকারিককে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। যাতে বিপদে পড়লে পরিবারগুলি সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
বৈঠকে সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত আসে সমর মণ্ডলের পরিবারকে ঘিরে। নেপালে নিখোঁজ সমরের স্ত্রী গীতিকা সরকার মণ্ডলের হাতে নিজের এক মাসের বেতন তুলে দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুধু অর্থ সাহায্য নয়। যে পরিবারগুলির একমাত্র রোজগেরে মানুষটি নিখোঁজ, তাদের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুজিবুর মোল্লার স্ত্রী সরবানু বিবির জন্য দ্রুত চাকরির ব্যবস্থা করতে জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার অশোক পালের স্ত্রী জবা পালকে মুখ্যমন্ত্রীর অস্থায়ী সহকারী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবারগুলির সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও। তাঁর স্ত্রীও নিখোঁজ। ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গেই ঘুরতে গিয়েছিলেন। আর ফেরেননি। কয়েকজন নিখোঁজ ব্যক্তি চিন সীমান্তের কোনও নিরাপদ এলাকায় পৌঁছেছিলেন বলে যে তথ্য পরিবারের কাছে এসেছে, তার সত্যতা যাচাইয়ের আর্জিও জানানো হয়।

এই বিষয়ে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, এমন কোনও তথ্য হাতে এলে তা সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত বলেও বৈঠকে জানানো হয়।নিয়মিত যোগাযোগের জন্য খোলা হচ্ছে WhatsApp ও e mail ব্যবস্থা। নিখোঁজদের ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছে। এখনও মেলেনি চূড়ান্ত খবর। মৃত্যু শংসাপত্র নিয়েও রয়েছে আইনি জটিলতা।প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নিখোঁজ কাউকে সাত বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আইনগতভাবে মৃত ঘোষণা করা যাবে না। কেন্দ্র ও নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
তবু সব কিছুর শেষে থেকে যায় একটাই অপেক্ষা-‘মানুষটা কি ফিরবে’?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ছবি সৌজন্যে চিফ মিনিস্টার অফিস ওয়েস্ট বেঙ্গল ফেসবুক পেজ

(Photo courtesy: Chief Minister Office West Bengal Facebook page)
