কার্তিক-ইয়ামিদের সেরার মঞ্চে বাংলার অঞ্জন দত্ত , জাতীয় পুরস্কারে বাংলার মুখ উজ্জ্বল

0


দিল্লির চেনা গণ্ডি পেরিয়ে এ বার ইতিহাসের সাক্ষী গুজরাট।সাত দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবার রাজধানীর বাইরে বসেছে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার গুজরাতের একতানগরে, স্ট্যাচু অফ ইউনিটির আবহে আয়োজিত হল ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নিতে এদিন একে একে হাজির হলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তারকা, পরিচালক ও শিল্পীরা। আর এই জাতীয় মঞ্চে বাংলার জন্যও এল গর্বের মুহূর্ত। সেরা বাংলা ছবি হিসাবে অঞ্জন দত্তের ‘চালচিত্র এখন’ সম্মান পেল। একইসঙ্গে ‘অঙ্ক কী কঠিন’-এর তিন খুদে শিল্পীও জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্তিক আরিয়ান, ইয়ামি গৌতম,আদিত্য ধর,মামুট্টি, ধনুশ,রণদীপ হুডাসহ বহু বিশিষ্ট শিল্পী।



‘চালচিত্র এখন’-এর সাফল্য অঞ্জন দত্তের কাছেও আবেগের। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছে অঞ্জন দত্ত ও তাঁর পুত্র নীল দত্ত।নিজের ছেলে নীল দত্তকে সঙ্গে নিয়েই নিজেদের অর্থে তৈরি করেছিলেন এই ছবি। তাই জাতীয় পুরস্কারের স্বীকৃতি তাঁর কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং নিজের বিশ্বাস আর পরিশ্রমেরও স্বীকৃতি। পুরস্কার পাওয়ার পর অঞ্জন বলেন,”আমার কাছে সবথেকে বড় পাওনা হল, আমি আর নীল নিজেদের পয়সা দিয়ে এই সিনেমাটা করতে পেরেছি। এটা যদি অন্য কারও টাকায় হত, তাহলে এই পুরস্কার বা সম্মাননা অতটা বড় হত না। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে তৈরি সিনেমার পুরস্কারপ্রাপ্তি আমার কাছে অনেক দামি।” দেশের সীমানা পেরিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দর্শকের ভালবাসা পাওয়ার পর এবার জাতীয় স্বীকৃতি পেল ‘চালচিত্র এখন’। অঞ্জনের কথায়, ঢাকা থেকে প্যারিস, মাদ্রিদ যেখানেই ছবি গিয়েছে, সেখানেই মানুষের ভালবাসা পেয়েছে। তাই জাতীয় পুরস্কার তাঁর কাছে সেই দীর্ঘ যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।



জুলাই মাসে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সৌরভ পালোধী পরিচালিত ‘অঙ্ক কি কঠিন’ এর তিন খুদে শিল্পী গীতশ্রী চক্রবর্তী, রিদ্ধিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও তপময় দেবকে জাতীয় পুরস্কারের সম্মানে সম্মানিত করা হবে। এছাড়াও পুরস্কার প্রাপ্তির তালিকায় ছিল বহু শিল্পী।সেরা অভিনেতার পুরস্কার যৌথভাবে পেলেন কার্তিক আরিয়ান ও মামুট্টি। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এ অভিনয়ের জন্য জাতীয় সম্মানে  স্বীকৃতি হলেন কার্তিক আরিয়ান। অভিনেতার কথায়, এই ছবির যাত্রা শুধু তাঁর কেরিয়ারেই নতুন অধ্যায় খুলে দেয়নি, অনেক মানুষকেও অনুপ্রাণিত করেছে।অন্যদিকে ‘ব্রহ্মযুগম’ ছবির জন্য একই সম্মানে ভূষিত হলেন মামুট্টি।



এইদিন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন ইয়ামি গৌতম। ‘আর্টিকল ৩৭০’-এ অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার পেলেন তিনি। শুধু ইয়ামির ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, ছবিটির ঝুলিতেও এল বড় স্বীকৃতি। সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করলেন ‘আর্টিকল ৩৭০’ পরিচালক আদিত্য ধর।এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। ২০২৪ সালের এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন প্রবীণ অভিনেতা অনন্ত নাগ। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কন্নড় তথা ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই দেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মানগুলির অন্যতম এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে।



তবে শুধু অভিনয় নয়, পরিচালনা ও বিভিন্ন বিভাগেও নজর কেড়েছে একাধিক ছবি।’আমরণ’ ছবির জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। অন্যদিকে দর্শকের জন্য জনপ্রিয় ও বিনোদনমূলক ছবির বিভাগে সেরার সম্মান পেয়েছে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’।অভিনেতা হিসেবে পরিচিত রণদীপ হুডার কাছেও দিনটি বিশেষ। ‘স্বতন্ত্র বীর সাভারকর’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর প্রথম ছবিতেই সেরা ডেবিউ পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেলেন রণদীপ। প্রথমবার গুজরাটে আয়োজন হওয়ায় এবারের অনুষ্ঠান হয়ে রইল জাতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *