জাতীয় দলের ধকল, এএফসি-র চাপ ! সব সামলে শিল্ড ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের নতুন পরীক্ষা
ডুরান্ড কাপের ফাইনালের পর ফের ডার্বি। তবে এবার মঞ্চ আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল। বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে মোহনবাগানের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের সামনে তাই ডুরান্ডের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার পাশাপাশি শিল্ড জেতার হাতছানি। তবে ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজের দলের পরিস্থিতি নিয়েই বেশি ভাবতে হচ্ছে কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে।
জাতীয় দলের হয়ে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিরুদ্ধে খেলে সদ্য ক্লাবে ফিরেছেন ইস্টবেঙ্গলের একাধিক ফুটবলার। তাঁদের শারীরিক ধকলের সঙ্গে মানসিক ক্লান্তিও মাথায় রাখছেন হাবাস। তার উপর সামনে এএফসি-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ফলে প্রথম একাদশ বাছাই থেকে শুরু করে ফুটবলারদের মাঠে রাখার সময়-সব কিছুতেই হিসাব কষতে হচ্ছে তাঁকে।
হাবাসের কথায়, ‘জাতীয় দল থেকে যারা ফিরছে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ট্রেনিংয়ে দেখে বুঝতে হবে ওরা কেমন অনুভব করছে। তারপরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাকে খেলানো হবে।’ আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর দ্রুত ক্লাবের ফাইনালে নামার মানসিক পরিবর্তনটাও সহজ নয় বলে মনে করছেন স্প্যানিশ কোচ। তবে কোনও অজুহাত দিতে নারাজ তিনি। পরিস্থিতি কঠিন হলেও ম্যাচের জন্য দল তৈরি বলেই জানাচ্ছেন হাবাস। এএফসি ম্যাচের গুরুত্বও মাথায় রয়েছে তাঁর। তাই শিল্ড ফাইনালে ফুটবলারদের অতিরিক্ত ধকল দিতে চান না। মোহনবাগান যেখানে প্রস্তুতির জন্য কয়েক দিন বেশি সময় পেয়েছে, সেখানে ইস্টবেঙ্গলের হাতে সেই সুযোগ নেই। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কে কত মিনিট খেলবেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ডুরান্ড কাপ ফাইনালের ফল নিয়ে অবশ্য ভাবতে রাজি নন হাবাস। তাঁর কাছে বৃহস্পতিবারের ম্যাচ একেবারে নতুন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান করলেও নিজের দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফুটবলই দেখতে চান তিনি। আর লক্ষ্যও স্পষ্ট- টাইব্রেকার পর্যন্ত ম্যাচ গড়াতে দিতে চান না।
মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথের পেনাল্টি সেভের প্রসঙ্গ উঠলে হাবাস বলেন, ‘পেনাল্টি শুটআউটে ম্যাচ জেতাকে আমি বিশেষ কৃতিত্ব দিই না। ৯০ মিনিটেই জিততে চাই। তা না হলে অতিরিক্ত সময়, তার পর পেনাল্টি। আমি সেই পরিস্থিতিতে যেতে চাই না।’
ডুরান্ডে মোহনবাগানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু শিল্ড ফাইনালে সেই ম্যাচের ছায়া নয়, নতুন পরিকল্পনাতেই মাঠে নামতে চাইছেন হাবাস। ৯০ মিনিট নিয়ন্ত্রণে রেখে ট্রফি জয়ের লক্ষ্যেই তাঁর লাল-হলুদ ব্রিগেড।ছবি সৌজন্যে ইস্টবেঙ্গল ও আইএফএ (Photos courtesy of East Bengal and IFA)

