৭০ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত হবে বাংলা! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’
একসঙ্গে জ্বলে উঠবে ৭০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপ। শুধু কলকাতায় নয়, রাজ্যের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে নির্দিষ্ট সময়ে দেখা যাবে আলোর এই ছবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে সামনে রেখে এমনই বড় কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য সরকার। নাম দেওয়া হয়েছে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধে ৭টায় রাজ্যের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়ারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালাবে। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর সংকল্পের প্রতীক হিসাবেই এই কর্মসূচিকে তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্য রয়েছে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা মিলিয়ে সংখ্যাটা ৭০ লক্ষেরও বেশি। স্কুলশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে পড়ুয়াদের হাতে একটি করে প্রদীপ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিবারের সকলকে সঙ্গে নিয়ে সেই প্রদীপ জ্বালানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি কলকাতাতেও থাকবে বড় আয়োজন। সূর্যাস্তের পর গঙ্গার তীরে হবে মূল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান। এরপর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মোদীর দেশসেবার ২৫ বছর পূর্তিকেও এবারের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে একাধিক অনুষ্ঠান। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-কে সামনে রেখে প্রায় ৮০ হাজার স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়ে অঙ্কন, প্রবন্ধ, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ২০৪৭ সালে ভারতকে কেমন দেখতে চান, সেই ভাবনাই ফুটিয়ে তুলবে পড়ুয়ারা। পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’-য় সাইকেল, বাইক ও পদযাত্রার আয়োজন করা হবে। ৭ অক্টোবর রয়েছে ‘সেবা যাত্রা’।
এবারের কর্মসূচিতে বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে ‘রঙ্গোলি যাত্রা’। প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে ১০৮ মিটার দীর্ঘ ‘ভারত মণ্ডল’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে নিয়ে হবে ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-ও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, মোদীর জন্মদিন এবং তাঁর দেশসেবার ২৫ বছর পূর্তিকে মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে চায় রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকে সামগ্রিক আয়োজনের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার আগেই সমস্ত কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে উপনির্বাচনের কারণে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে সরকারি ভাবে এই আয়োজন হবে না। আগামী ৬ অক্টোবর ওই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন থাকায় সেখানে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে। ফলে ওই দুই এলাকায় সরকারের তরফে কোনও অনুষ্ঠান করা হবে না। ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (Image collected from Facebook)
