ইউরো জয়ই তাঁর কাছে বিশ্বকাপের সমান, বিশ্বকাপে বিদায়ে অবসর নয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর!
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই উত্তর আমেরিকার মাটিতে শেষবারের মতো নেমেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে থেমে গেল পর্তুগালের অভিযান। অধরাই থেকে গেল ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি। তবুও হতাশার মাঝেও জাতীয় দলের হয়ে নিজের অর্জন নিয়ে গর্বিত পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। রোনাল্ডোর মতে, ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয় তাঁর কাছে বিশ্বকাপের সমান মর্যাদার। কারণ, তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবার কোনও আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতে পর্তুগাল। পরে দু’বার উয়েফা নেশনস লিগও জেতে দল। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর তিনি বলেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি ট্রফি জিতেছি। আমার আগে পর্তুগাল একটা ট্রফিও জেতেনি। তাই ২০১৬ সালের ইউরোই আমার কাছে বিশ্বকাপের সমান।’

এই মন্তব্য ঘিরে ফুটবলমহলে শুরু হয়েছে বিস্তর বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মান বিশ্বকাপের সঙ্গে ইউরোর তুলনা করা যায় না। তবে রোনাল্ডো নিজের অবস্থানেই অনড়। শেষ বিশ্বকাপে অবশ্য মাঠে নিজের ছাপ রাখতে পারেননি তিনি। পাঁচ ম্যাচে তিন গোল করলেও নকআউট পর্বে ছিলেন নিষ্প্রভ। স্পেনের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করেন, যা তাঁর বিশ্বকাপ কেরিয়ারের অন্যতম সর্বনিম্ন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও কখনও দুইয়ের বেশি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তও এখনই নিচ্ছেন না রোনাল্ডো। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নেন না তিনি। তাঁর কথায়, ‘এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া কষ্টের। কিন্তু আমরা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছি। এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, তারপর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবব।’

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে ২৭ ম্যাচে ১১ গোল করে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনাল্ডো। তবুও সোনালি ট্রফির আক্ষেপ নিয়েই শেষ হল তাঁর বিশ্বকাপ অধ্যায়। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে ইতিহাস গড়া, তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতানো এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দেওয়ার কৃতিত্বে ফুটবল ইতিহাসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়েই থাকবে।
