২২ বছরের অপেক্ষার অবসান! প্রথম আইএসএল
জয়ে ভারতসেরার সিংহাসনে ফিরল ইস্টবেঙ্গল

0



শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে যেন বিস্ফোরিত হল আবেগ। গ্যালারি থেকে মাঠ— সর্বত্র তখন শুধু লাল আর হলুদের ঢেউ। কেউ কাঁদছেন, কেউ জড়িয়ে ধরছেন অচেনা মানুষকে, কেউ আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলছেন— ‘অবশেষে!’ দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষা, অপমান, ব্যর্থতা আর আক্ষেপের পাহাড় ডিঙিয়ে ভারতসেরার মুকুট আবার ফিরল ইস্টবেঙ্গলের মাথায়। কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হল লাল হলুদ।


ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের মতো ছিল না। বরং প্রথমার্ধে বারবার চাপে পড়ে যাচ্ছিল অস্কার ব্রুজোর দল। ১৪ মিনিটে আলফ্রেড প্লানাসের অসাধারণ লবে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। লিগ না পাওয়ার হতাশা, বড় ম্যাচে ভেঙে পড়ার পুরনো ভয় যেন আবার ফিরে আসছিল সমর্থকদের মনে। কিন্তু এ বারকার ইস্টবেঙ্গল অন্যরকম। এ দল হার মানতে শেখেনি।


প্রথমার্ধে প্রভসুখন সিং গিল না থাকলে হয়তো ম্যাচ সেখানেই শেষ হয়ে যেত। একের পর এক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে টিকিয়ে রাখেন তিনি। আর বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে অস্কার ব্রুজোর বার্তাও ছিল স্পষ্ট— ‘শেষ ৪৫ মিনিট নিজেদের উজাড় করে দাও।’


তারপরই বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ৫০ মিনিটে ইউসেফ এজেজারির পায়ে সমতা ফেরে। গ্যালারিতে তখন নতুন করে প্রাণের সঞ্চার। আর ৭৩ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপিনের পাস থেকে রশিদের আলতো ছোঁয়া, তারপর বল জালে। যেন সময় থমকে গিয়েছিল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তারপর বিস্ফোরিত হল কিশোর ভারতী। মশাল জ্বলল, গর্জে উঠল গ্যালারি, মাঠে নেমে এল উন্মাদনা। এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়। এটি এক প্রজন্মের অপেক্ষার অবসান। সুভাষ ভৌমিকের পর আবার এক বিদেশি কোচের হাত ধরে সর্বভারতীয় সাফল্য পেল ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েল, রশিদ, এজেজারি, প্রভসুখন— প্রত্যেকেই হয়ে উঠলেন নতুন ইতিহাসের নায়ক।
একসময় যে ক্লাবকে ঘিরে শুধুই হতাশা আর প্রশ্ন ছিল, সেই ইস্টবেঙ্গলই বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় ফুটবলের নতুন রাজা। আর সেই কারণেই বৃহস্পতিবারের রাতটা শুধু একটি জয় নয়, লাল-হলুদের অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ার রাত হয়ে রইল।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *