শেষ মুহূর্তে জয়, তবু ট্রফিহীন মোহনবাগানের চোখে শুধুই শূন্যতা

0



শেষ বাঁশির ঠিক আগে জেমি ম্যাকলারেনের গোল। তারপর জার্সি খুলে উন্মাদ উদযাপন। গ্যালারিতে ২৬ হাজার সমর্থকের গর্জন। মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, যেন সবকিছু সম্ভব। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও নিষ্ঠুর। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যুবভারতীর আলো-আবেগ-উল্লাস ঢেকে গেল এক গভীর নীরবতায়। কারণ, কিশোর ভারতীতে তখন ইতিহাস লিখে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই খবর পৌঁছতেই বোঝা গেল, ম্যাচ জিতেও হেরে গেল মোহনবাগান।
স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ গোলে হারিয়েও আইএসএলের সিংহাসন ছুঁতে পারল না সবুজ-মেরুন। সমান ২৬ পয়েন্ট নিয়েও গোলপার্থক্যে পিছিয়ে রানার্স হয়েই মরশুম শেষ করতে হল সের্জিও লোবেরার দলকে। যে ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে গোটা মরশুম লড়াই চলেছিল, তা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল।
শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়েছিল মোহনবাগান। কামিন্স, ম্যাকলারেন, দিমিত্রি, একসঙ্গে নামিয়ে আক্রমণাত্মক বার্তা দিয়েছিলেন লোবেরা। কিন্তু সমস্যা একটাই, গোলের সামনে গিয়ে যেন বারবার থমকে যাচ্ছিল দল। কামিন্স একাধিক নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করলেন। সাহাল, মনবীর, দিমিত্রিরাও ব্যর্থ। গোটা মরশুমের পুরনো রোগই যেন শেষ ম্যাচেও তাড়া করে ফিরল মোহনবাগানকে।
তারই মাঝে ৬২ মিনিটে ক্লারেন্স ফার্নান্ডেজের গোলে এগিয়ে যায় দিল্লি। মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় যুবভারতী। তখন মনে হচ্ছিল, শুধু ট্রফিই নয়, শেষ ম্যাচটাও হয়তো হাতছাড়া হতে চলেছে। কিন্তু মরিয়া লড়াই ছেড়ে দেয়নি সবুজ-মেরুন। ৮৯ মিনিটে মনবীরের হেডে সমতা ফেরে। তারপর অতিরিক্ত সময়ে ম্যাকলারেন গোল করে জয় এনে দেন।
কিন্তু সেই জয়েও ছিল না কোনও তৃপ্তি। কারণ অন্য প্রান্তে তখন লাল-হলুদের উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। যুবভারতীর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বহু সমর্থকের চোখে তখন জল। এত সুযোগ, এত সম্ভাবনা, এত বড় মঞ্চ— তবু শেষ পর্যন্ত ট্রফি এল না। এই হার শুধু একটি খেতাব হারানোর নয়। এটি অপূর্ণতার গল্প। গোটা মরশুমে তৈরি হওয়া আশা, আত্মবিশ্বাস আর আধিপত্যের মাঝেও শেষ পর্যন্ত ছোট ছোট ভুলই কেড়ে নিল স্বপ্ন। আর তাই শেষ রাতে জয় পেলেও, মোহনবাগানের আকাশে থেকে গেল শুধুই আক্ষেপের ছায়া।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *