কঙ্গোর সাহসী লড়াই থামিয়ে কেইনের জোড়া আঘাত, শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর সামনে ইংল্যান্ড

0


৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে স্বপ্ন দেখাচ্ছিল ডিআর কঙ্গো। মাত্র ৭ মিনিটেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে গিয়ে তারা চাপে ফেলে দিয়েছিল ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে। এরপর পুরো প্রথমার্ধে গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি যেন হয়ে ওঠেন এক অদম্য প্রাচীর। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, মার্কাস র‍্যাশফোর্ডদের একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বারবার বাঁচিয়েছেন কঙ্গোকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব প্রতিরোধ ভেঙে দিলেন একজনই—হ্যারি কেইন।


আটলান্টায় বিশ্বকাপের রাউন্ড অব-৩২ ম্যাচে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আর এই জয়ে ইতিহাসও গড়েছেন ব্রিটিশ অধিনায়ক। জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৩-তে নিয়ে গিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি পেলের ১২ গোলের রেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভয়ডরহীন ফুটবল খেলেছে ডিআর কঙ্গো। ৭ মিনিটে চ্যান্সেল এমবেম্বার নিখুঁত পাস থেকে ব্রায়ান সিপেঙ্গার নিচু শটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। গোল হজমের পর কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। বেলিংহাম, র‍্যাশফোর্ড, কেইন—সবার প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেন এমপাসি। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ড্রেসিংরুমে যায় কঙ্গো।


দ্বিতীয়ার্ধে কোচ টমাস টুখেলের বদলি কৌশল বদলে দেয় ম্যাচের ছবি। বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডন নামার পর আক্রমণের গতি বাড়ে ইংল্যান্ডের। অবশেষে ৭৫ মিনিটে গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান হ্যারি কেইন।
সমতায় ফেরার পর আর পিছনে তাকাতে হয়নি থ্রি লায়নদের। ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শক্তিশালী শটে এমপাসিকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের জয় এবং শেষ ষোলোর টিকিট।
এই জোড়া গোল শুধু ইংল্যান্ডকে বাঁচায়নি, কেইনের ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাও সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বকাপে ১৩তম গোল করে তিনি পেছনে ফেলেছেন পেলের ১২ গোলের রেকর্ড। একই সঙ্গে নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের চতুর্থ গোল করে স্পর্শ করেছেন কিংবদন্তি স্যার জিওফ হার্স্টকে। তাঁর সামনে এখন কেবল গ্যারি লিনেকার।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমবার কোনো নকআউট ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাসও গড়েছে ইংল্যান্ড। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।
অন্যদিকে বিদায় নিলেও ডিআর কঙ্গো মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে। ১৯৭৪ সালের জাইরের ব্যর্থতার স্মৃতি পেরিয়ে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে তারা দেখিয়েছে লড়াই, সাহস আর সম্ভাবনার ফুটবল। শেষ পর্যন্ত হারলেও কঙ্গোর এই পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *