মরণকামড় বেলজিয়ামের, মাত্র ৩ মিনিটে বদলে দিল ভাগ্য! কান্নায় ডুবল সেনেগাল

0


ফুটবল কখনও কখনও নিষ্ঠুর। আবার সেই নিষ্ঠুরতাই তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর খেলাও বানিয়ে দেয়। সিয়াটলের রাত যেন সেই দুই রূপই একসঙ্গে দেখল। একদিকে বেলজিয়ামের উন্মত্ত আনন্দ, অন্যদিকে সেনেগালের বুকভাঙা কান্না। একই মাঠে একই সময়ে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পৃথিবীর জন্ম হলো।
৮৫ মিনিট পর্যন্ত যে দলটা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ক্ষণ গুনছিল, শেষ বাঁশি বাজার পর তারাই উৎসবে মেতে উঠল। আর যে দলটা দুই গোলের স্বস্তিতে পরের রাউন্ডের স্বপ্ন দেখছিল, তাদের চোখে তখন শুধু জল। ফুটবল এমন গল্পই লিখতে ভালোবাসে—যেখানে শেষ মুহূর্তের আগে পর্যন্ত কোনো সমাপ্তি লেখা থাকে না।
বেলজিয়ামের এই জয় শুধু একটি জয় নয়, এটা ছিল এক মরণকামড়। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার, হার না মানার এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার এক দুর্লভ উদাহরণ। মাত্র তিন মিনিটে বদলে গেল সব হিসাব। যে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল, সেটাই হয়ে উঠল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের গল্প।


এই গল্পের সবচেয়ে বড় নায়ক ইউরি টিলেমানস। কিছুক্ষণ আগেও যিনি সতীর্থের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত দলের ত্রাতা। যেন সমস্ত রাগ, হতাশা আর ক্ষোভকে এক জায়গায় জড়ো করে তিনি পরিণত করলেন জয়ের শক্তিতে। ফুটবল মাঝে মাঝে এমন চরিত্রও তৈরি করে, যাদের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়।
কিন্তু এই গল্পের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন লামিন কামারা। শেষ মুহূর্তের সেই ফাউল, তারপর পেনাল্টি, আর শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়া এক তরুণ ফুটবলারের কান্না—এই দৃশ্য হয়তো অনেক দিন ভুলতে পারবেন না ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন প্রতিপক্ষের নায়ক টিলেমানসও। কিন্তু কিছু কান্নার কোনো ভাষা নেই, কোনো সান্ত্বনাও নেই।


সেনেগাল শুধু একটি ম্যাচ হারেনি, হারিয়েছে প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া একটি স্বপ্ন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে ইতিহাস লেখার সুযোগ। এই পরাজয় হয়তো বহু রাত তাদের ঘুম ভাঙাবে, মনে করিয়ে দেবে—ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো জয় নিশ্চিত নয়।
২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ফিরেছিল বেলজিয়াম। আট বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও তারা মনে করিয়ে দিল, রেড ডেভিলসকে সময় শেষ হওয়ার আগে কখনো শেষ ভেবে নেওয়া যায় না।
সিয়াটলের সেই রাত তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। ছিল হাসি আর কান্নার সবচেয়ে নির্মম মিশেল। ফুটবল আবারও প্রমাণ করল, এই খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি গোল নয়, ট্রফি নয়—মানুষের হৃদয়কে এক মুহূর্তে ভেঙে দেওয়া, আবার পরের মুহূর্তেই নতুন করে জোড়া লাগানোর ক্ষমতা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *