পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষের স্মরণের সময়! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করতেন পুজো উদ্বোধন! তোপ শুভেন্দুর
সনাতনী রীতি ভেঙে পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন! তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন যেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেষ্টপুর প্রফুল্ল কাননে গণেশ পুজোর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সনাতনী রীতির ব্যাখ্যা টেনে অতীতের পুজোর সূচনার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগে তৃণমূল সরকারের আমলে পিতৃপক্ষেই দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের রীতি চালু হয়েছিল। এই প্রথার সঙ্গে বর্তমানে জেলে থাকা এক প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, ‘সনাতন ধর্মে পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণের সময়। গয়ায় পিণ্ডদান, শ্রাদ্ধশান্তির মতো কাজ হয়। এই সময়ে কোনও শুভ কাজ করা হয় না। অথচ জেলে থাকা লম্বা এক প্রাক্তন মন্ত্রীর পুজো উদ্বোধন করতে পিতৃপক্ষেই যেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।’ তাঁর বক্তব্য, এই রীতির বদল প্রয়োজন। আগামী দিনে দেবীপক্ষ তথা মহালয়ার দিন থেকেই দুর্গাপুজোর সূচনা করার বার্তা দেন তিনি।
এর পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন শুভেন্দু। নাম না করে তাঁর দাবি, ‘যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরে দু’বার আমি হারিয়েছি, তিনি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজোর সমন্বয় বৈঠকে বলেছিলেন, মহরম রয়েছে বলে বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জন হবে না।’ এই প্রসঙ্গ তুলে আগের সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার সনাতনী সংস্কৃতি ও পুজোর রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন তিনি।
ঘট উত্তোলন, কলাবউ স্নান, বোধন থেকে মহাষ্টমীর অঞ্জলি কিংবা বিজয়ার নিরঞ্জন—দুর্গাপুজোর নানা আচার নিয়েও নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে পঞ্জিকা, শাস্ত্র ও সনাতনী আচার থেকে বাংলাকে দূরে সরানোর চেষ্টা হয়েছে। সেই পুরনো পরম্পরা ফিরিয়ে আনার ডাক দেন তিনি। মহাষ্টমীতে শুচি-শুদ্ধভাবে অঞ্জলি দেওয়ার পাশাপাশি ওই তিথির পবিত্রতা বজায় রাখার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজারহাট গোপালপুরের বিধায়ক আইনজীবী তরুণ জ্যোতি তিওয়ারির উদ্যোগে এই গণেশ পুজো। এদিন একটি ওয়েবসাইট এর উদ্বোধন করা হয়। অফলাইনের পাশাপাশি এবার অনলাইনে এলাকার মানুষ তাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। এতদিন বিধায়কের সাথে দেখা করে অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতেন এলাকার মানুষ। গণেশ পুজোয় সবাইকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের প্রসঙ্গও। ওপার বাংলায় ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের চোখের জলের কথা উল্লেখ করেন। নিজের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু জানান, শুধু হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁর মাকেও বরিশাল থেকে এক কাপড়ে এপারে চলে আসতে হয়েছিল।
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে বাঙালি হিন্দুদের ‘হোমল্যান্ড’ বলে উল্লেখ করে ভাষা ও জাতের বিভাজন ভুলে একসঙ্গে থাকার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘তুমি হিন্দিভাষী, তুমি গুজরাতি, তুমি বাঙালি, তুমি মাড়োয়ারি—এই প্রাচীরটা আমরা ভেঙে দিয়েছি। অ্যাট দ্য এন্ড অফ দ্য ডে, উই অল আর হিন্দুস্তানি।’ তাঁর দাবি, বহু লড়াইয়ের পরে পাওয়া পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের।
