বামেদের বইয়ের স্টলে মার্কস-লেনিন, বিবেকানন্দ কোথায়? শুভেন্দু অধিকারীর তোপ
কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর মঞ্চ। আর সেখান থেকেই বামেদের দীর্ঘ শাসনকালকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিরোধিতার চেনা সুরের বাইরে গিয়ে এ দিন তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে উঠে এল বই, মতাদর্শ এবং ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রসঙ্গ। বাম আমলে পুজোকে ঘিরে যে বইয়ের স্টল বসত, সেখানে কী ধরনের বই থাকত, আর কী ধরনের বই থাকত না-সেই উদাহরণ তুলে ধরে বামেদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, সেই সময় পুজোর মণ্ডপের পাশে বইয়ের সম্ভার থাকলেও সেখানে স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই খুঁজে পাওয়া যেত না। লোকনাথ নন্দজীর লেখা বইও থাকত না। অথচ বিদেশি মার্কসবাদী চিন্তাধারার অন্যতম মুখ কার্ল মার্কসের বই পাওয়া যেত, পাওয়া যেত লেনিনের বই। এই তুলনাই সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, বাংলার মাটির সঙ্গে যুক্ত মনীষীদের চিন্তাভাবনা কেন সেই জায়গায় অনুপস্থিত ছিল? তাঁর কথায়, ‘সেখানে যে বইগুলো থাকত, একটাও স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই পাবেন না, একটাও লোকনাথ নন্দজীর লেখা বই পাবেন না। আপনি বিদেশি কার্ল মার্কসের বই পাবেন, আপনি লেনিনের বই পাবেন।’
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই বামেদের রাজনৈতিক দর্শনের বিরুদ্ধে তাঁর মূল অভিযোগটি তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখাই নয়, দীর্ঘ সময়ে সমাজের চিন্তাভাবনা এবং সাংস্কৃতিক পরিসরেও একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বামেদের বহুল আলোচিত ‘ধর্ম আফিম’ অবস্থানকেও এ দিন আক্রমণের কেন্দ্রে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগ, পুজো-পার্বণ এবং আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যে গভীর সম্পর্ক, বাম জমানায় তার সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত তৈরি করা হয়েছিল। ফলে একদিকে পুজোর আয়োজন চললেও অন্যদিকে সেই পরিসরে ভারতীয় মনীষী, ধর্মীয় সাহিত্য এবং সনাতনী সংস্কৃতির উপস্থিতি কমে গিয়েছিল-এমনই অভিযোগ তাঁর। শুধু বইয়ের প্রসঙ্গেই থামেননি শুভেন্দু। বামেদের ৩৪ বছরের শাসনকালকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্য, বাংলার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের জায়গা আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তার বদলে বিদেশি রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কার্ল মার্কস ও লেনিনের বইয়ের উপস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চান, কোন চিন্তাধারাকে সামনে রাখা হয়েছিল আর কোন চিন্তাধারাকে পিছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
