ফ্যাব্রেগাসের হাত ধরে তৃতীয় বিভাগ থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, কোমোর রূপকথায় মুগ্ধ ইউরোপ
ইউরোপীয় ফুটবলের মরসুম শেষের রাতে সবচেয়ে বড় গল্প লিখল কোমো। কয়েক বছর আগেও যারা ইতালির তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের ফুটবলে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছিল, সেই ক্লাবই এবার জায়গা করে নিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। উত্তর ইতালির ছোট শহরের এই ক্লাবের উত্থান এখন ইউরোপীয় ফুটবলের নতুন রূপকথা।
সিরি ‘এ’-এর শেষ ম্যাচে ক্রেমোনিজকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় কোমো। লুকাস দা কুনিয়ার জোড়া গোলের পাশাপাশি আনাস্তাসিওস দুভিকাস ও জেসুস রদ্রিগেজও গোল করেন। একই সময়ে এসি মিলানের হার এবং জুভেন্টাসের ড্র কোমোর পথ আরও সহজ করে দেয়। ৭১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে শেষ করে তারা নিশ্চিত করে ২০২৬-২৭ মরসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় নাম সেস্ক ফ্যাব্রেগাস। আর্সেনাল, বার্সেলোনা ও চেলসির প্রাক্তন তারকা মিডফিল্ডার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বদলে দিয়েছেন কোমোর চেহারা। তরুণ ও প্রায় পুরো বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটা এই মরসুমে ২০টি ম্যাচ জিতেছে। জুভেন্টাসের মতো জায়ান্টদেরও হারিয়েছে তারা। ক্লাবের ১১৯ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় খেলতে নামবে কোমো।

কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ২২ বছর আগে দেউলিয়া হয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছিল ক্লাবটি। পরে নতুন নামে সেরি ডি থেকে যাত্রা শুরু হয়। ২০১৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার শিল্পপতি রবার্ট বুডি হার্টোনো ও মাইকেল বামবাং হার্টোনোর মালিকানায় যাওয়ার পর বদলাতে শুরু করে ভাগ্য। শক্তিশালী আর্থিক বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফ্যাব্রেগাসের ফুটবল দর্শন মিলিয়েই আজকের কোমো।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতালি থেকে খেলবে ইন্টার মিলান, নাপোলি, রোমা ও কোমো। ইংল্যান্ড থেকে জায়গা পেয়েছে আর্সেনাল, ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুল। স্পেন থেকে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল ও রিয়াল বেতিস। জার্মানি থেকে বায়ার্ন মিউনিখ, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, লাইপজিগ ও স্টুটগার্ট। ফ্রান্স থেকে উঠেছে পিএসজি, লেঁস ও লিল।

তবে এত তারকার ভিড়ে মরসুমের শেষ রাতে আলোটা কেড়ে নিয়েছে কোমোই। দেউলিয়া হওয়া এক ক্লাব থেকে ইউরোপের সেরা মঞ্চে পৌঁছে যাওয়া, ফুটবলের সৌন্দর্য হয়তো এভাবেই নতুন করে প্রমাণ করল ইতালির ছোট্ট এই দল।
