১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান, নকআউটে স্পেন, ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড!
অবশেষে কাটল দীর্ঘ প্রতীক্ষা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৬ বছর পর আবারও জয়ের স্বাদ পেল স্পেন। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুধু শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিতই করেনি লা রোজা, সঙ্গে ফিরিয়ে এনেছে হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসও। ২০১০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউটে জয় পেল স্প্যানিশরা।
একসময় বিশ্ব ফুটবলে স্পেন মানেই ছিল আধিপত্যের অন্য নাম। জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ইকার ক্যাসিয়াস, সার্জিও রামোস, সেস ফ্যাব্রেগাস, ডেভিড ভিয়া ও সার্জিও বুস্কেটসদের হাত ধরে ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১২ সালে টানা দ্বিতীয় ইউরো শিরোপাও জিতেছিল তারা। কিন্তু সেই সোনালি প্রজন্মের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন ফিকে হয়ে যায় স্পেনের জাদুও।
২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, ২০১৮ সালে আয়োজক রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হার, আর ২০২২ সালে মরক্কোর বিপক্ষে টাইব্রেকারে একটিও গোল করতে না পেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায়—বারবার নকআউটে হতাশাই সঙ্গী হয়েছে স্পেনের। তাই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই জয় শুধু শেষ ষোলোয় ওঠার টিকিট নয়, দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার শৃঙ্খল ভাঙার গল্পও।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। সেই দাপটের প্রতিফলন আসে ৩৬ মিনিটে। মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো বলে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ৬৬ মিনিটে আলেক্স বায়েনার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। ম্যাচের শেষদিকে আবারও কুকুরেয়ার পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওয়ারজাবাল। তাঁর জোড়া গোলেই ৩-০ ব্যবধানে নিশ্চিত হয় স্পেনের স্বস্তিদায়ক জয়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি কীর্তিও গড়েছে স্পেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের নিজেদের সর্বোচ্চ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করেছে তারা।
অনেক বছর ধরেই স্পেনকে সম্ভাবনাময় দল বলা হয়েছে, কিন্তু নকআউটের চাপ সামলে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য দেখাতে পারেনি তারা। এবার সেই আক্ষেপের অবসান ঘটল। সোনালি প্রজন্মের পর নতুন এই দলটি যে আবারও বড় স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয় যেন তারই ইঙ্গিত দিয়ে রাখল।
