এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে কেরালার সঙ্গে ড্র ইস্টবেঙ্গলের,যুবভারতীতে ‘অস্কার গো ব্যাক’ স্লোগান
ম্যাচের আগেই যেন ফোকাস নড়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিপক্ষের কৌশল নয়, বরং ক্লাব কর্তাদের দিকেই ইঙ্গিত করে সুর চড়িয়েছিলেন কোচ অস্কার ব্রুজো। সেই বিতর্কের আবহেই শনিবার যুবভারতীতে মাঠে নামে লাল হলুদ। আর শেষ পর্যন্ত ফলও হল হতাশাজনক, এগিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে ১-১ ড্র করতে হল ইস্টবেঙ্গলকে।

ফলাফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এল গ্যালারির প্রতিক্রিয়া। ম্যাচের শেষদিকে ছন্নছাড়া ফুটবলে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একাংশ ক্ষোভে গ্যালারি থেকে তুললেন ‘অস্কার গো ব্যাক’ স্লোগান। টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করে আইএসএলে আরও চাপে পড়ে গেল লাল হলুদ শিবির।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জক ছিল ইস্টবেঙ্গলের জন্য। ৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে এডমন্ডকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় লাল হলুদ। পোনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইউসুফ এজ্জেজারি। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই ছন্দ হারিয়েছে ব্রুজোর দল। বিশেষ করে শেষ কোয়ার্টারে রক্ষণভাগে দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সুযোগই কাজে লাগায় কেরালা ব্লাস্টার্স। যোগ করা সময়ে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ভুলে ফ্রি হেড থেকে গোল করে সমতা ফেরান আজহারুদ্দিন আজমল।শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই হাতছাড়া হয় জয়। গ্যালারিতে তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে ব্রুজো অবশ্য সমর্থকদের প্রতিক্রিয়াকে অস্বাভাবিক বলে মানতে চাননি। তাঁর কথায়, সমর্থকদের হতাশা প্রকাশের অধিকার আছে।
তবে ক্লাবের অন্দরে চাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট। ম্যাচের পর শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার সরাসরি বলেন, ‘এত জঘন্য ফুটবল চোখে দেখা যায় না।’ যদিও কোচ বদলের প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য, অস্কারকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের হাতে নেই। ফলে ড্রয়ের হতাশা আর কোচকে ঘিরে বিতর্ক-দুয়ের মাঝেই আরও অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে ইস্টবেঙ্গল শিবির।
