‘প্রতিবাদ করায় কাজ বন্ধ হয়েছিল,শিরদাঁড়া সোজা রেখেই লড়েছি’ বিস্ফোরক দাবি সুদেষ্ণা রায়ের
দীর্ঘ দুই দশক পর ‘বিশ্বাস দুর্গর’ পতন হয়েছে। তারপর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলে একাংশের দাবি।নতুন সরকার আসতেই তাঁরা জানিয়েছেন বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে রাজনৈতিক প্রভাব,ভয় দেখানোর সংস্কৃতি এবং দীর্ঘদিনের ‘ব্যান কালচার’ থেকে মুক্ত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।গত এক দশকে টলিউডের বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে,শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বারবার বাধার মুখে পড়েছে।ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনেকের কাজের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আবার কেউ কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেয়েছেন।একসময় ফেডারেশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছিল যে,তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে পরিচালকদের সৃজনশীল ও পেশাগত স্বাধীনতার উপর প্রভাব বিস্তার করছে।এই অভিযোগকে সামনে রেখেই ডিরেক্টর্স গিল্ডের একাংশ আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।পরিচালকদের কাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং ফেডারেশনের কিছু নিয়মকানুনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক সদস্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন।এই আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য ,পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং সুদেষ্ণা রায়-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও।তবে মামলা খারিজ হওয়ার পরই এই মামলায় উপস্থিত থাকা বহু পরিচালকদের অলিখিতভাবে ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়েছিল।এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন পরিচালক তথা অভিনেতা সুদেষ্ণা রায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,”আমি নতুন নয়, বহুদিন ধরেই এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি।তার জন্য আমাকে শাস্তিও পেতে হয়েছে।আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি,আমার ছবির স্ক্রিনিং আটকে দেওয়া হয়েছে।আমার সঙ্গে কথা বলতেও অনেকে ভয় পেত।”তিনি জানান, প্রথমে কয়েকজন পরিচালক মিলে ইন্ডাস্ট্রির কিছু সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।পরবর্তীতে সেই আন্দোলনে আরও অনেকে যোগ দিলেও ২০২৫ সালের শুরুর থেকে একের পর এক পরিচালকের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বলে তাঁর দাবি। তাঁর কথায়,অনেককে পরে প্রকাশ্যে বলতে বাধ্য করা হয় যে তাঁদের অভিযোগ ভুল ছিল এবং তাঁরা কোনও প্রতিবাদ করছেন না।তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনও ভয়-ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়নি। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও স্বচ্ছ ও সুস্থ পরিবেশ তৈরি হবে।”
তিনি বলেন,”আমরা কখনও ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ছিলাম না।আমরা ফেডারেশনের সঙ্গেই কাজ করতে চেয়েছি।শুধু চাইছিলাম ইন্ডাস্ট্রিতে আরও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হোক।”সুদেষ্ণার দাবি,তাঁদের বিরুদ্ধে অলিখিতভাবে কাজ না করার নির্দেশ ছিল।”আমাদের বলা হত আমরা নাকি ফেডারেশন বিরোধী।ভোটের আগে পর্যন্ত আমি কোনও কাজ পাইনি পরে ভোটের পর আবার কাজ শুরু করতে পেরেছি।”তিনি আরও জানান, তাঁদের দায়ের করা পিটিশন মাঝপথেই খারিজ হয়ে যায়।সেই সময় দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্যও ছিল না তাঁদের।তাই তাঁরা সরকারের হস্তক্ষেপে একটি কমিটি এবং ইন্ডাস্ট্রির জন্য নির্দিষ্ট এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) তৈরির দাবি তুলেছিলেন।তবে সেই দাবি পূরণ হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।
পরিচালক পরমব্রতকে ক্ষমা চাওয়ার ভিডিয়ো প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন সুদেষ্ণা। তাঁর কথায়,”সেই সময় পরমের অনেক কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠদেরও কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না।ফলে ওর পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল।আমাকেও বলা হয়েছিল একটা সরি বলে দিতে।কিন্তু আমি আমার শিরদাঁড়া সোজা রেখে লড়াই করে গিয়েছি।”
