ফলতায় পদ্মঝড়ে উড়ল ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’, শুভেন্দুর টিপ্পনী ওটা ‘তৃণমূলের হার-বার মডেল’
ফলতা পুনর্নির্বাচনের ফল যেন বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত রেখে গেল। যে কেন্দ্র একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল, সেই ফলতাতেই এবার কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুল প্রচারিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’। বিপুল ব্যবধানে জয় পেল বিজেপি। আর তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নেমে গেলেন চতুর্থ স্থানে। রবিবার ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গণনা শুরু হতেই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথম রাউন্ড থেকেই এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। শেষ পর্যন্ত তিনি ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের শম্ভুনাথ কুর্মিকে(প্রাপ্ত ভোট ৪০,৬৪৫) হারান ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে। দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে সিপিএম। কংগ্রেস থাকে তৃতীয় স্থানে (প্রাপ্ত ভোট ১০,০৮৪ )। আর তৃণমূল প্রার্থী পুষ্পা খ্যাত জাহাঙ্গির খানের ঝুলিতে যায় মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট। জামানতও বাজেয়াপ্ত হয় তাঁর।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ফল শুধু একটি কেন্দ্রের জয়-পরাজয়ের হিসেব নয়, বরং ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন। কারণ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ফলতা বিধানসভা থেকেই তৃণমূল প্রায় ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিল। অথচ পুনর্নির্বাচনে সেই তৃণমূলই চতুর্থ স্থানে।

ফল প্রকাশের পরই সমাজ মাধ্যমে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, সেটাই এখন ‘তৃণমূলের হার-বার মডেল’-এ পরিণত হয়েছে। নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্যারাসুটে নামা সেনাপতি’ ও ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ‘১৫ বছর পর মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা পেয়েছেন বলেই আসল বাস্তব সামনে এসেছে।’ অন্যদিকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, ‘এটা ফলতাবাসীর জয়। মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ ভোট ও গণনার মাধ্যমেই এই ফল এসেছে।’ এই জয়ের ফলে বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০৮। ফলতার ফল কেবল একটি উপনির্বাচনের ফল নয়, বরং আগামী দিনের বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন বার্তা। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে ঘিরে যে রাজনৈতিক প্রচার তৈরি হয়েছিল, ফলতার রায় তাতে বড়সড় বিদ্রুপের ছাপ রেখে গেল।
