‘এত বিপজ্জনক জায়গায় শ্যুটিং কেন?’ রাহুলের মৃত্যুতে প্রশ্ন তুললেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুর পর শোকের আবহের মধ্যেই বারবার জোরালো হয়ে উঠেছে শ্যুটিং সেটের নিরাপত্তা ইস্যু। এবার সেই প্রসঙ্গেই সরব হলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস।
সোমবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। স্বরূপ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে এলাকায় শ্যুটিং চলছিল, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে সাধারণত অনুমতি দেওয়া হয় না। তাঁর প্রশ্ন, “এত বিপজ্জনক জায়গায় শুটিং করা হল কীভাবে?”
তাঁর কথায় ধরা পড়ে গভীর আক্ষেপও। স্বরূপ যোগ করেন, “আমরা একজন গুণী শিল্পীকে হারালাম। শুধু শিল্পী নয়, একজন পরিবারের মানুষ চলে গেল। তাঁর মা, তাঁর ছোট্ট সন্তান, এদের দায়িত্ব নেবে কে?”, প্রশ্ন তোলেন স্বরূপ।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দীর্ঘক্ষণ জলে ডুবে থাকার ইঙ্গিত মিললেও, প্রযোজনা সংস্থার তরফে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। এই অসঙ্গতি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ডিরেক্টর, ম্যানেজার, সবাই আলাদা আলাদা কথা বলছেন। বিষয়টা সত্যিই ভাবাচ্ছে।”
আউটডোর শুটের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে ফেডারেশন যে বারবার সতর্ক করে, সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন স্বরূপ। তাঁর মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে কেন সেই সতর্কতা প্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, “কপাল ভালো, আমার টেকনিশিয়ানদের কিছু হয়নি, যারা ওকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারাও তলিয়ে যেতে পারত।”
প্রসঙ্গত, তালসারির সমুদ্রে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চোরাবালি ও আচমকা ঢেউ পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তোলে। সহ-অভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই জলের স্রোতে ভেসে যান রাহুল। দ্রুত উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে থেমে যায় এক প্রতিভাবান শিল্পীর জীবন।
