‘রাহুলদা অমর রহে, গাও ইন্টারন্যাশনাল’, লাল সেলামে শেষ বিদায় রাহুলের
বিজয়গড়ের দুপুরটা ছিল বড় শোকের। ২৯ মার্চ , রবিবার। শুটিং করতে গিয়ে চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেলেন টলিপাড়ার সকলের প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়। সোমবার তমলুকের হাসপাতালে প্রয়াত অভিনেতা রাহুলের ময়নাতদন্ত হওয়ার পর বিজয়গড়ের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাঁর মরদেহ। অভিনেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে গোটা বিজয়নগর যেন ভেঙে পড়েছিল শোকে।
প্রয়াত অভিনেতার শেষযাত্রায় ভিড় জমায় টলিপাড়ার তারকারা। পরিবারের পাশে ছুটে আসেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়,সব্যসাচী চক্রবর্তী ,সোহিনী সরকার, আবীর চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ ,রূপাঞ্জনা মিত্র , সুদীপ্তা চক্রবর্তী ,রূপম ইসলাম ,পার্নো মিত্র ,প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ,গৌরব-ঋদ্ধিমা-সহ আরও অনেকে। শুধু ইন্ডাস্ট্রি নয়, রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে আসে। কমরেডকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন দীপ্সিতা ধর। প্রয়াত অভিনেতাকে ‘গাও ইন্টারন্যাশনাল , মিলাবে মানব জাত’ ,’রাহুলদা অমর রহে’-এর স্লোগানের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানিয়েছেন দীপ্সিতা ধর। ফুটবল প্রেমী ছেলেটার দেহে জড়িয়েছিল ইস্ট বেঙ্গলের লাল-হলুদ কাপড়।
প্রতিবেশী ,বন্ধু,সহকর্মী সকলেই শেষবারের মতো দেখতে আসে প্রয়াত অভিনেতাকে। পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে কোনও স্টুডিওতে না রেখে সরাসরি কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় , সেখানেই সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। এই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী , মেনে নিতে পারছেন না তাঁর প্রিয় ‘বাবিন’ যে আর নেই।
অন্যদিকে ,স্বামীকে হারানোর শোক যেন নিথর করে দিয়েছিল প্রিয়াঙ্কাকে। জীবনের অসংখ্য স্মৃতি ,স্বপ্ন ,প্রতিশ্রুতি সবকিছু হঠাৎই যেন থেমে গেছে। পাশে ১৩ বছর বয়সের ছোট ছেলে সহজের জন্য শক্ত থাকতে হচ্ছে। ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে রাহুল নিজের পডকাস্টের নাম রেখেছিলেন ‘সহজ কথা’। সেই বাবা-ছেলের হাসি-খুশি কথোপকথনের স্মৃতি এ দিন আরও বেশি করে নাড়া দিচ্ছে কারণ এমন একটি কঠিন দিনের মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করেনি কেউই ।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ -এর পর থেকে একের পর এক কাজ উপহার দিয়ছিলেন অভিনেতা। অভিনয় শুধুই তাঁর কাছে একটি পেশা নয়,সাধনার জায়গাও বটে। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে প্রথম তিনি নাট্যমঞ্চে পদার্পন করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও একজন নিবেদিত শিল্পী।’জুলফিকার’,’পাপ’,’দূর্গ রহস্য’,’সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ এর মতো সকল ছবি তার বিশেষ হয়ে থাকবে। তার লেখা সকল বই মানুষের মনে গেঁথে থাকবে।
