কণ্ঠ থমকে গেছে অলকা ইয়াগনিকের! শুনতে পান না, গানও গান না! তাঁর জীবনে এ এক অদ্ভুত লড়াই…

0

একসময় বলিউডের আকাশ জুড়ে ভেসে বেড়াত তাঁর কণ্ঠ। প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা বেদনা-প্রতিটি অনুভূতির সুর হয়ে উঠেছিলেন অলকা ইয়াগনিক। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য সুপারহিট গানে তিনি যেন নায়িকাদের প্রাণ-স্বর। অথচ আজ সেই কণ্ঠই যেন বন্দি নীরবতার দেওয়ালে।
২০২৪ সালে আচমকাই ভক্তদের চমকে দিয়ে নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেন অলকা। এক বিরল শ্রবণজনিত সমস্যা-সেন্সরিনিউরাল হেয়ারিং লসে আক্রান্ত তিনি। একটি ভাইরাল সংক্রমণের পর হঠাৎই ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর শ্রবণশক্তি। জীবনের এক নির্মম মুহূর্তের কথা মনে করে তিনি জানিয়েছিলেন, বিমানে থেকে নামার পর আচমকাই অনুভব করেন—চারপাশের কোনো শব্দই আর কানে পৌঁছচ্ছে না। সেই মুহূর্ত যেন তাঁর সঙ্গীতজীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অলকার কণ্ঠে শোনা গেল একই বেদনা- ‘এখনো ভুগছি’। সুরকারদের কাছ থেকে নিয়মিত প্রস্তাব এলেও শারীরিক অবস্থার কারণে সেগুলোতে রাজি হতে পারছেন না তিনি। তাঁর কষ্টের সহজ সরল স্বীকারোক্তি- ‘প্রস্তাব আসে, কিন্তু আমি করতে পারছি না’। অলকার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই মনখারাপ তাঁর অগণিত ভক্তদের। শেষবার তাঁর কণ্ঠ শোনা গিয়েছিল ইমতিয়াজ আলীর ‘অমর সিং চামকিলা’ ছবিতে, এ আর রাহমানের সুরে ‘নারম কালজা’ গানে। তারপর থেকেই স্তব্ধ সেই সুরের ধারা। তবুও সম্মান থেমে থাকেনি-এ বছরের শুরুতে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই প্রাপ্তির মাঝেও তাঁর বিনয়ী প্রতিক্রিয়া- ‘যখনই আসে, তখনই সেটাই স্বাগত’।
অসুস্থতার মাঝেও ভক্তদের কথা ভোলেননি অলকা। বরং সবাইকে সতর্ক করেছেন বেশিমাত্রার শব্দ ও দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝিয়েছেন, শ্রবণশক্তির যত্ন কতটা জরুরি। আজ তিনি হয়তো মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতে পারছেন না, কিন্তু তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান এখনও বেজে চলে কোটি কোটি হৃদয়ে। সেই সুরই যেন ভক্তদের আশা জাগায়-একদিন সব বাধা পেরিয়ে আবারও ফিরে আসবেন অলকা ইয়াগনিক, তাঁর চেনা, অমলিন কণ্ঠে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *