কোটিপতি নন ‘দিদি’! মুখ্যমন্ত্রী হয়েও নেই নিজের বাড়ি-গাড়ি— কত সম্পত্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

0


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে এল তাঁর সম্পত্তির বিস্তারিত হিসেব, যা আবারও সামনে আনল তাঁর পরিচিত সরল জীবনযাপনের ছবি।
হলফনামা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কমেছে মুখ্যমন্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ। বর্তমানে তাঁর সম্পদের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০৯ টাকা ৭১ পয়সা, যা ২০২১ সালের প্রায় ১৬ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকারও বেশি কম।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়— এত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরেও তাঁর নামে নেই কোনও বাড়ি বা গাড়ি। এমনকি শেয়ার বাজার বা অন্য কোনও বড় বিনিয়োগও নেই।



আয় ও সম্পদের খতিয়ান
হলফনামায় উঠে এসেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর মোট আয় ছিল ২৩ লক্ষ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা। এর আগের বছর ২০২৩-২৪-এ আয় ছিল ২০ লক্ষ ৭২ হাজার ৭৪০ টাকা। তবে ২০২১-২২ অর্থবর্ষেই তাঁর আয় সর্বোচ্চ ছিল— ৩৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৪১০ টাকা।
এছাড়াও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তিনি ৪০ হাজার ৬০০ টাকা টিডিএস ফেরত পেয়েছেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।



নগদ ও ব্যাঙ্ক সঞ্চয়
মনোনয়ন জমার সময় তাঁর হাতে নগদ ছিল ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা। ব্যাঙ্কে রয়েছে মোট ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০৯ টাকা ৭১ পয়সা— যার মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টে ১২ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি এবং অন্যটিতে ৪০ হাজার টাকা।

গয়না ও অন্যান্য সম্পদ
চকচকে জীবনযাপন থেকে অনেক দূরে থাকা এই নেত্রীর গয়নাও খুবই সীমিত। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর কাছে রয়েছে মাত্র ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম সোনা, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষের কিছু বেশি, আর স্থাবর সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই— নেই জমি, নেই বাড়ি।



ঋণ বা মামলার বোঝা নেই
হলফনামায় আরও জানানো হয়েছে, তাঁর নামে কোনও ঋণ বা দেনা নেই। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলাও মুলতুবি নেই এবং অতীতে কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা
শিক্ষার দিক থেকেও তিনি যথেষ্ট যোগ্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আইন নিয়েও পড়াশোনা করেন এবং ১৯৮২ সালে স্নাতক হন।

আয় কীভাবে
পেশা হিসেবে তিনি ‘সোশ্যাল ওয়ার্ক অ্যান্ড পলিটিক্স’-এর কথা উল্লেখ করেছেন। আয়ের উৎস হিসেবে রয়্যালটি ও সুদের কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও ব্যক্তিগত জীবনে সরলতার এই ছবি বরাবরই আলাদা করে চিহ্নিত করেছে ‘দিদি’কে। ভবানীপুরের মনোনয়নপত্রের হলফনামাও যেন সেই চেনা জীবনযাপনেরই প্রতিফলন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *