‘২২০ থেকে ২৩০টা আসন পাওয়ার কথা ছিল’! উপরওয়ালা দেখছে বললেন মমতা
৪ মে,বঙ্গে ঘাসফুল ঝরে ফুটেছে পদ্মফুল।২০৮ টি আসনে জিতে বঙ্গের মসনদে জায়গা করেছে ‘বিজেপি’।এইকথা শুরু থেকেই মানতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়।তবে এবার ফলতা উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশে তৃণমূলের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর ফেসবুক লাইভে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।নিশানায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তাঁর দাবি,”তৃণমূল হারেনি।মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে,কিন্তু ভোট লুট করে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে।”
ফলতায় বিজেপির দাপুটে জয়ের পর রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, “এটা কি সত্যি নির্বাচন হয়েছে নাকি প্রহসন হয়েছে? এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।জেতার জায়গা হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।অন্তত ১৫০টি আসনে একই কায়দায় ফল বদলে দেওয়া হয়েছে।আমাদের ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু পাশা উল্টে দেওয়া হয়েছে।”ফলপ্রকাশের দিন ভবানীপুর কেন্দ্রের কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন,”আমাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে।১৩ হাজার ভোটে ভবানীপুর থেকে এগিয়ে ছিলাম। তারপর হঠাৎ করেই ফল ঘুরে গেল।কীভাবে সেই পরিবর্তন হল, তার সব তথ্য আদালতেই তুলে ধরব।ইভিএম মেশিনের রিপোর্ট চাই আমাদের। উপরওয়ালা দেখছে আপনি বাংলাকে লুঠ করছেন।আপনার দিল্লি চলে যাবে।”
শুধু তাই নয়, ভোটার তালিকা নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর করে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।যদিও আন্দোলনের মাধ্যমে ২৭ লক্ষ নাম ফের তালিকাভুক্ত করা হলেও,পরিকল্পিত ভাবে ভোটে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।লাইভে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন,”বিজেপির কর্মীরা সিআরপিএফের পোশাক পরে কাউন্টিং হলে ঢুকে পড়েছিলেন। আড়াই হাজার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাজার হাজার পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। হকারদের উচ্ছেদ করে জীবিকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর ও কর্মীদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।বাধ্য করা হচ্ছে পদত্যাগ করতে। ২০ দিন মুখ বুজে সব সহ্য করেছি। শুধু আমি নই, বাংলার মানুষও অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন।আপনারা যদি সত্যি জিততেন তাহলে এভাবে অত্যাচার করতেন না।”
নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে বলেন, “যিনি এখন চেয়ারে বসেছেন, তাঁর ওই চেয়ারে বসারই কথা নয়। ভোট লুট করে শাসন করছেন।”পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের সময় শুরু হওয়া একাধিক প্রকল্পের নাম বদলে এখন সেগুলোকেই নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার, ডিএ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়েও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন মমতা। ‘পুরোহিত’ ও ‘ইমাম’ ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করে মমতার দাবি, “ওই টাকা কোনও ধর্মের কথা ভেবে দেওয়া হত না, সম্মান জানানোর জন্যই দেওয়া হত।”পাশাপাশি যুবভারতীতে মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুব খারাপ লেগেছে। একজন শিল্পীকে দিয়ে তৈরি করিয়েছিলাম। সেখানের ব লেখাটা আমি নিজে লিখেছিলাম। ছোট ছেলেমেয়েরা সেখানে গিয়ে ছবি তুলত। ফিফা প্রশংসা করেছিল। সেটাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল।”
এদিন দলের অন্দরের বেসুরো নেতাদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, “দলে কিছু বেনোজল ঢুকে পড়েছে, যারা কঠিন সময়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান ,এখন থেকে তাঁর প্রধান মাধ্যম হবে ফেসবুক লাইভ। তাঁর কথায়,“আমার অস্ত্র আমার ফেসবুক। মিডিয়ার সামনে আর কথা বলব না। মানুষের কাছে যা বলার,সরাসরি ফেসবুক লাইভেই বলব।”
