টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে সরব দেব ,৭২ ঘন্টায় সমাধানের পথ কি মিলল ?
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে মঙ্গলবার থেকে আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল টলিপাড়ায়। তবে কথা মতো বুধবার থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়। মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের সকল কলাকুশলীরা।সেই বৈঠকের শেষেই টলিউড শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান কালচার’ ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা দেব। দেব জানান,প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে ৭২ ঘন্টার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং ‘বয়কট’ হয়ে থাকা সকল শিল্পীদের কাজে ফিরিয়ে আনা হবে। শুধু তাই নয়,ঘোষণার পর দেব নিজে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় ৭২ ঘন্টা কাউন্টডাউনের একটি ছবিও শেয়ার করেন।এবার ‘ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র চিঠিও শেয়ার করলেন অভিনেতা।
বৃহস্পতিবার পরিচালক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন দেব। চিঠিটি পোস্ট করে তিনি লেখেন,”আমি ‘ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, আমার উদ্বেগ প্রকাশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য এবং কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার কাছে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য। এই উদ্যোগ আমাকে শুধু একজন ব্যক্তি হিসেবেই নয়, আমাদের চলচ্চিত্র জগতের একজন সহকর্মী হিসেবেও গভীর আনন্দ দিয়েছে।সিনেমা পারস্পরিক সহযোগিতা, বোঝাপড়া এবং একে অপরের কাজের প্রতি সম্মানের ওপরেই টিকে থাকে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই সবচেয়ে জরুরি।”
প্রসঙ্গত ,মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর বৈঠকে প্রযোজনা সংস্থা সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালীনই টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ প্রসঙ্গটি তুলে আনেন দেব। তিনি জানিয়েছেন,”আমরা আর আলাদা করে আর্টিস্ট ফোরাম বা ফেডারেশন নই। আমরা এখন একটাই ছাদ।”তাঁর কথায় ,বহু অভিনেতা ও পরিচালক দীর্ঘদিন ধরে ব্যানড হয়ে কাজের বাইরে রয়েছেন।তাই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন যে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এই ‘বয়কট’ হওয়া শিল্পীদের কাজে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।রাহুলের অকাল মৃত্যু ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কাজ থেকে দূরে থাকার কষ্ট কতটা গভীর, তা এই ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাই সব ‘ব্যানড’ শিল্পীদের দ্রুত কাজে ফিরিয়ে আনার পক্ষেই মত দেন দেব।
এখন নজর টলিউডে ‘বয়কট’ থাকা সকল শিল্পীদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশে ফিরিয়ে আনা যায় কিনা ,সেটাই দেখার।
