প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে, শোকস্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ
সঙ্গীতের দুনিয়ায় নক্ষত্র পতন। থামলো আশা ভোঁসলের সুরেলা সফর। প্রয়াণকালে বয়স হয়েছিল ৯২। মুম্বইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সঙ্গীতজগতের এই দিকপাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, শিল্পীর বাড়ির গৃহকর্মীকে শরীরের অস্বস্তি ও মাথা যন্ত্রণার কথা বলার সময়ই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে শেষ রক্ষা হল না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শিল্পী।
২০০০ সালে দাদা সাহেব ফালকে, ২০০৮ সালে পদ্মা ভূষণ এবং ২০১৮ সালে বঙ্গ বিভূষণ। আশা ভোঁসলে বাংলা ছবিতে নেপথ্য সঙ্গীত গেয়েছেন। এছাড়া ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মান-সহ ৯টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ছিল তাঁর ঝুলিতে। দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভও করেছিলেন তিনি।
বলার অবকাশ রাখে না হিন্দি ভাষা ছাড়াও ২০টি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। তিনি অনেক বাংলা আধুনিক গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং নজরুলগীতি গেয়েছেন।
মঙ্গেশকর পরিবারের দুই নক্ষত্র একটা সময় রাজ করেছেন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে। দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ছোট বোন আশার প্রতিদ্বন্দিতার কথা কারও অজানা নয়। ১৯৫৭ থেকে ১৯৫৮ বলিউডের একের পর এক হিট গান দিয়ে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছিলেন আশা তবে তাঁর এই আরোহণ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ১৯৫৯ এর শুরুতেই নিজের ছন্দে ফেরেন দিদি লতা। চলতে থেকে দুই বোনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ১৯৭০ সালে দিদিকে ফের টক্কর দেন আশা।
লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল লতাকে সব ছবিতেই প্রাধান্য দিতেন বলে জানা যায়। অপরদিকে আর ডি বর্মন আর কল্যাণজি আনন্দজী প্রাধান্য দিতেন আশাকে। হেমা মালিনী, রাখী, মুমতাজ, মৌসুমী চ্যাটার্জির জন্য চিরস্থায়ী কণ্ঠ ছিলেন লতা। সেরকম আশা কণ্ঠে দিতেন জীনাত আমান, পারভীন ববি, রেখা ও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতিটি ছবিতে।
১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। ১০ বছর বয়স থেকে অর্থাৎ ১৯৪৩ থেকে নিজের সঙ্গীতকে পেশা করে জীবনের পথে চলতে শুরু করেন আশা। সংগীত পরিচালক এবং সুরকার রাহুল দেব বর্মনকে ১৯৮০ তে বিয়ে করেন তিনি।
সংগীত দুনিয়ায় আশা ভোঁসলের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।
