বিপ্লবদা একজন অভিনেতা নন,মানুষটার কাছে প্রচুর শিখেছি, আমার শিক্ষকের মতো ছিলেন: প্রসেনজিৎ

0

টলিউডে ফের নক্ষত্রপতন।একের পর এক খারাপ খবরের মাঝে ফের শোকের ছায়া ।প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়, আবৃত্তি এবং নিজের অনন্য কণ্ঠস্বর দিয়ে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তাই শেষবার প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে এদিন টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ভিড় জমায় টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ইমন চক্রবর্তী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, চৈতি ঘোষাল, জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আরাত্রিকা মাইতি-সহ অনেকে।তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “পরপর কিছু ঘটনা, কিছু মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, যেগুলোর জন্য আমরা কোনওভাবেই প্রস্তুত নই। আজ বিপ্লবদা চলে গেলেন, এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।অনেকেই হয়তো জানেন না, যে সময় সাদা কালো টিভি ছিল। সেই সময় সংবাদ পাঠ করতেন তিনি। অনবদ্য সংবাদপাঠ করতেন। যে টেলিফিল্মগুলো হত তাতে বিপ্লবদার চিত্রনাট্য, গল্প বা সংলাপ থাকতই। অভিনয় তো ছিলই।”

তিনি আরও বলেন,“ওনার উচ্চারণ ছিল অসামান্য। একটা সময় উনি রাজত্ব করেছেন। শুধু সংবাদপাঠক হিসাবে নয়, বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমাতেও দুর্দান্ত কাজ করেছেন।” তিনি জানান, বহু বছরের সম্পর্ক ছিল তাঁদের পরিবারের সঙ্গে। যদিও নিয়মিত যোগাযোগ কম ছিল, তবুও সুযোগ পেলেই আড্ডায় বসতেন, নানা বিষয়ে কথা বলতেন এবং তাঁর কাছ থেকে শিখতেন। অভিনেতা বলেন, “আমার একটা এভি আছে, জাতীয়, আন্তর্জাতিক লোকজনদের কাছে পাঠাতে হয়। সেটার কন্ঠস্বর পুরোটাই বিপ্লবদার করা। ওই মানুষটার কাছে প্রচুর শিখেছি। যখনই সময় পেতাম বসতাম, আড্ডা মারতাম, অনেক কিছু শিখতাম। সৃজিতের ছবিতে সুভাষ বোসের চরিত্রে অভিনয় করার সময় বিপ্লবদার কাছ থেকে অনেক সাহায্য নিয়েছি। কীভাবে বলা উচিত, কীভাবে উপস্থাপন করা উচিত—সব বিষয়ে উনি সাহায্য করতেন।”

তিনি জানান, বিপ্লব দাশগুপ্তের কণ্ঠস্বরই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। সেই গলার জন্যই যাঁকে সকলে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন, জীবনের শেষ পর্বে তাঁর গলার সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।প্রসেনজিৎ বলেন, “উনি শুধু একজন অভিনেতা নন,ওনার অনেকগুলি আলাদা দিক আছে। তাঁর গল্প বলা,তাঁর চিত্রনাট্য ,সংলাপ প্রতিটি সৃষ্টি অনবদ্য।কিন্তু এই ধরনের শিল্পীরা একের পর এক চলে যাচ্ছেন, এটা আমাদের কাছে অনেক বড় হারানো।তবে উনি চলে গেলেও আমাদেরকে অনেকিছু শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। আমাদের যদি কোনও সময় কোনও সমস্যা হত বিপ্লবদাকে বলতাম এটা একটু বলতো কীভাবে বলবো। উনি আমার কাছে শিক্ষকের মতোই ছিলেন। আমার পরিবারের মতো ছিল এবং খুবই গুণী একজন পরিবারের মানুষ চলে গেলেন।ওনার মতো শিল্পীকে আমরা মনে রাখব।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *