ভয়মুক্ত হোক ইন্ডাস্ট্রি, শিল্পীদের গলা টিপে কাজ না করতে দেওয়ার মতো অন্যায় চলবে না: রূপা গঙ্গোপাধ্যায়
দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডের অন্দরে অরাজকতা, পক্ষপাতিত্ব এবং তথাকথিত ‘ব্যান কালচার’-এর অভিযোগ ঘিরে চলছিল বিতর্ক।অভিযোগ,পূর্বতন সরকারের তোষামোদ না করলে বহু শিল্পীকে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হত।কেউ কেউ কাজের সুযোগ হারিয়েছেন,আবার কেউ প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করায় কোণঠাসাও হয়েছেন।তবে সরকার পরিবর্তনের পর ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি,পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।এখন প্রশ্ন,টলিউড কি সত্যিই একটি স্বচ্ছ ও ভয়মুক্ত পরিবেশের দিকে এগোচ্ছে?‘ব্যান কালচার’-এর অধ্যায় কি তবে শেষ হতে চলেছে?সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনা সেই প্রমাণই দিয়েছেন।জয়ব্রত দাসের ছবি ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ এবং অনীক দত্তের ‘অপরাজিত’—দুই ছবিই নন্দনে প্রদর্শিত হয়েছে।যে নন্দনকে ঘিরে একসময় ছবি নির্বাচন ও প্রদর্শন নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠত,সেখানে এই ঘটনাগুলিকে অনেকেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।এরই মধ্যে পরিচালক রুদ্রজিৎ রায়ের নতুন ছবি ‘পিঞ্জর’-এর টিজার মুক্তির অনুষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।তাঁর বক্তব্য, শিল্পীদের ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।তাঁর মতে, সুস্থ ও স্বচ্ছ শিল্পচর্চার স্বার্থেই এই পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় দাবি জানান,ইন্ডাস্ট্রিতে ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার।তাঁর মতে, ভয়মুক্ত হওয়ার অর্থ উৎশৃঙ্খল হয়ে ওঠা নয়,বরং নিজের মতামত ও বক্তব্যকে শান্ত, সংযত এবং শালীনভাবে প্রকাশ করতে পারার স্বাধীনতাই প্রকৃত ভয়মুক্তির পরিচয়।দীর্ঘদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং সেই কারণে অনেকের মধ্যেই ভয় কাজ করছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।তাঁর কথায়,”বহুদিন ধরেই অন্যায় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে। ভয় পাওয়াটা মানুষের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে, তাই মানুষ ভয় পাচ্ছে।শিল্পীরা যদি ঠিক ভাবে কাজ করে তাহলে তো ভয়ের কিছু থাকে না।সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত,যেখানে মানুষ কোনও ভয় ছাড়াই নিজের কথা বলতে পারবেন এবং সেই মতপ্রকাশ হবে সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে।
ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিনেত্রী জানান,আগে এমন পরিস্থিতি দেখা যেত না যেখানে কাজ আটকে দেওয়া হতো বা শুটিং ব্যাহত করা হতো।তিনি অভিযোগ করে বলেন,”শিল্পীদের গলা টিপে কাজ করতে দেব না,সেট তৈরি হওয়ার পরও চারদিন ধরে শুটিং হলো না—এগুলো তো আগে দেখা যেত না।সেগুলো আর হবে না।”শিল্পীদের সমস্যা সমাধানে সংগঠনের পদ বা চেয়ারের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে,শিল্পীদের কথা শুনতে বা তাঁদের পাশে দাঁড়াতে কোনও নির্দিষ্ট পদে বসার প্রয়োজন নেই।তিনি বলেন,”শিল্পীদের সমস্যা সমাধানের জন্য আমার মনে হয় না আর্টিস্ট ফোরামের চেয়ারে বসার প্রয়োজন আছে।”
এদিন ইন্ডাস্ট্রিতে তোলাবাজি ও যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি প্রসঙ্গেও মুখ খুলতে দেখা যায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন,”দীর্ঘদিন ধরে যে অন্যায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে, তারই একটি ফলাফল আজ দেখা যাচ্ছে।আমি চাই পুলিশ নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে তদন্ত করুক।তিনি আমার রাজনৈতিক বিরোধী বলেই যে তাঁর দীর্ঘ কারাবাসে আমি খুশি হব,এমন নয়।তিনি যদি কোনও অন্যায় করে থাকেন,তবে সেই অপরাধ অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিই যেন পান।পুলিশের উপর আমার আস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে,তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনও মিথ্যা অভিযোগও আনা হয়ে থাকে,সেগুলিও যেন সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়।”
