২৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর হাতছানি লাল হলুদের সামনে, ইতিহাসের অপেক্ষায় সমর্থকরা

0



একটা জয়। শুধু একটা জয়ই বদলে দিতে পারে দুই প্রজন্মের অপেক্ষার গল্প। বৃহস্পতিবার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে নামার আগে সেই ইতিহাসের দোরগোড়াতেই দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। ২০২০-২১ মরসুমে আইএসএলে যোগ দেওয়ার পর থেকে বারবার হতাশা, ব্যর্থতা আর সমালোচনার মুখে পড়া দলটাই এবার ট্রফির এত কাছে।
তবে ফুটবলের গল্প কখনও সরলরেখায় চলে না। ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আইএসএল ট্রফির স্বপ্নের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আর এক বঙ্গসন্তান—অভিজিৎ মণ্ডল। ইন্টার কাশীর জার্সিতে তাঁর দল ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, বড় দলকে আটকে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ফলে অস্কার ব্রুজোঁর দলের সামনে শুধু প্রতিপক্ষ নয়, মানসিক চাপও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে চলেছে।


সমীকরণ অবশ্য পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে লাল-হলুদ। পয়েন্টে মোহনবাগানের সঙ্গে সমান হলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এক মুহূর্তের ভুল, গোল মিস কিংবা অযথা চাপ—সব কিছু বদলে দিতে পারে। পাঞ্জাব ম্যাচ বা ডার্বিতে নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট না হলে হয়তো এত দূর পর্যন্ত অপেক্ষাই করতে হত না।


২০০০-০১ মরসুমের স্মৃতি এবার বারবার ফিরে আসছে সমর্থকদের মনে। সেবারও শেষ ম্যাচ পর্যন্ত টানটান লড়াই চলেছিল মোহনবাগানের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় লিগ জিতে ইতিহাস গড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর কেটে গিয়েছে ২৫ বছর। নতুন প্রজন্মের বহু সমর্থক কখনও জাতীয় স্তরের লিগ ট্রফি হাতে লাল-হলুদকে দেখেননি। বৃহস্পতিবার সেই আক্ষেপ মুছে যাওয়ার সুযোগ।
তবে অস্কার ব্রুজোঁ আবেগে ভাসতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘এটা আমাদের ফাইনাল ম্যাচ। আমরা জানি ইন্টার কাশী কঠিন প্রতিপক্ষ। শেষ পাঁচ মরসুমের ব্যর্থতার পর এবার সুযোগ এসেছে, কিন্তু এখনও কাজ শেষ হয়নি।’ কিশোর ভারতীতে তাই বৃহস্পতিবার  শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ নয়। শেষ ম্যাচে ইতিহাস, চাপ, আবেগ আর অসমাপ্ত স্বপ্নের লড়াই।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *