বাগানে ছয় গোলের স্বপ্ন, চোটের চিন্তা আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের বার্তা লোবেরার
খাতায়-কলমে এখনও সুযোগ আছে। কিন্তু বাস্তব বলছে, মোহনবাগানের সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ। আইএসএল লিগ শিল্ড জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে গেলে শুধু স্পোর্টিং ক্লাব অফ দিল্লিকে হারালেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে। আর সেই অসম্ভবের কাছাকাছি অঙ্ক নিয়েই শেষ ম্যাচের প্রস্তুতিতে নেমেছে সবুজ-মেরুন শিবির। ডার্বির আগের মতোই ম্যাচের আগের দিনও পাশাপাশি মাঠে অনুশীলন করল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। এক নম্বর গ্রাউন্ডে লাল-হলুদ, পাশের মাঠে সবুজ-মেরুন। তবে দুই শিবিরের মানসিক অবস্থার ফারাক স্পষ্ট। একদিকে ট্রফির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল, অন্যদিকে শেষ আশাটুকু আঁকড়ে বেঁচে মোহনবাগান।
সবুজ-মেরুন শিবিরে অবশ্য সবচেয়ে বড় চিন্তা চোট। আপুইয়া নিশ্চিতভাবেই নেই। ডার্বিতে চোট পাওয়া জেসন কামিন্সকে নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। যদিও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকে পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না কোচ সের্জিও লোবেরা।
তবু হাল ছাড়তে নারাজ বাগান কোচ। সাংবাদিক বৈঠকে লোবেরার গলায় শোনা গেল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা। তাঁর কথায়, ‘আমরা যে জায়গায় থাকতে চেয়েছিলাম, সেখানে নেই। কিন্তু এখনও সুযোগ আছে। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করব।’
সমস্যা শুধু সমীকরণ নয়, গোলও। শেষ কয়েক ম্যাচে সুযোগ তৈরি করেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি মোহনবাগান। অথচ এবার দরকার একঝাঁক গোল। লোবেরা অবশ্য বিশ্বাস হারাচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব। অসম্ভব নয়। তবে ১০০ শতাংশ দিতে হবে।’
দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার দিমিত্রি পেত্রাতোসও একই সুরে আশাবাদী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দল এখনও বিশ্বাস করছে। মাঠে নেমে শেষ লড়াইটুকু উজাড় করে দিতে চান তাঁরা।
মোহনবাগানের সামনে সমীকরণ কঠিন। তবে ময়দানের ইতিহাস বলে, সবুজ-মেরুন কখনও শেষ বাঁশি বাজার আগে আত্মসমর্পণ করতে শেখেনি। তাই লড়াইটা এখনও বেঁচে আছে।
