বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস, মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা
শুরুটা ছিল হতাশার। ম্যাচের প্রথম ভাগেই পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন ম্যাচের নায়ক। জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয় এনে দিলেন তিনি। এই জয়ে গ্রুপ ‘জে’-তে টানা দুই ম্যাচ জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ভিএআরের সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নবম মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। তবে তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গ্যালারিতে নেমে আসে হতাশা। বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে টানা তিন বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের অনভিপ্রেত নজিরও গড়ে ফেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
তবে মেসি থেমে থাকেননি। ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত দলীয় মুভ থেকে থিয়াগো আলমাদার বুদ্ধিদীপ্ত ছেড়ে দেওয়া বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। সেই গোলেই বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজেকে ছাড়িয়ে সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন মেসি। পাশাপাশি টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
বিরতির পর অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস তাদের হতাশ করেন। শেষ দিকে চাপ বাড়ালেও গোলের দেখা পায়নি ইউরোপের দলটি।
ইনজুরি টাইমে ম্যাচের শেষ নাটকীয় মুহূর্তটি আবারও লিখলেন মেসি। পাল্টা আক্রমণ থেকে প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও ফিরতি বলে জাদুকরী দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে।
মেসির রেকর্ডগড়া জোড়া গোলের রাতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখল আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত করল নকআউট পর্বের টিকিট।
