তারকা-সন্তান বলেই বাড়তি প্রচার! আমার ছেলের থেকেও ভালো সাঁতারু আছে অকপটে স্বীকার আর মাধবনের

0



‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ফরহান কুরেশির কথা মনে আছে? বাবার ইচ্ছায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে যে ছেলেটা নিজের স্বপ্নকে হারিয়ে ফেলছিল। শেষ পর্যন্ত র্যাঞ্চোর কথাতেই সাহস পেয়েছিল নিজের মনের কথা বলতে। ক্যামেরাই হয়ে উঠেছিল তার জীবনের ঠিকানা। পর্দার সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আর মাধবন। মজার বিষয়, বাস্তবেও যেন সেই দর্শনই বহন করেন তিনি। তবে এবার নিজের ছেলের সাফল্য নিয়ে গর্ব করার বদলে তিনি আলো ফেললেন সেই সব অচেনা প্রতিভার উপর, যাঁরা হয়তো তাঁর ছেলে বেদান্ত মাধবনের থেকেও ভালো সাঁতারু, কিন্তু তারকা-সন্তান নন বলেই প্রচারের আলোয় আসেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা আর মাধবন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর ছেলে বেদান্তকে নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা হয়, তার বড় কারণ সে একজন জনপ্রিয় অভিনেতার সন্তান। তাঁর কথায়, ‘বেদান্তের চেয়েও ভালো সাঁতারু ভারতে আছে। কিন্তু তারা আমার ছেলে নয়, তাই হয়তো তাদের নিয়ে এত আলোচনা হয় না’। এই স্বীকারোক্তি শুধু একজন বাবার বিনয় নয়, দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থার এক বাস্তব ছবিও তুলে ধরে।
এখন ২০ বছর বয়সী বেদান্ত মাধবন ভারতীয় সাঁতারের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ। জাতীয় স্তরে একাধিক পদক জয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০২৬ এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে ভারতীয় দলের সঙ্গে নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বয়সভিত্তিক বিভাগে ধারাবাহিক সাফল্য, জাতীয় রেকর্ড গড়া এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জয়ের সুবাদেই ভারতীয় সাঁতারে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন বেদান্ত। তবে সেই সাফল্যের মাঝেও বাবা আর মাধবন মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তারকা-সন্তানের পরিচয়ের বাইরে আরও অনেক প্রতিভাবান সাঁতারু রয়েছেন, যাঁদের প্রাপ্য স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। অভিনেতার মতে, খ্যাতি কখনও কোনও ক্রীড়াবিদের সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। বরং অজস্র প্রতিভা নীরবে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে, যাদের নাম অনেকেরই জানা নেই। তাই বেদান্তকে তিনি ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছেন, প্রচার বা প্রশংসাকে কখনও সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে ভাবা যাবে না। মাধবন জানান, তিনি ছেলেকে সবসময় বলেছেন, মানুষের করতালি যেমন আসে, তেমনই একদিন থেমেও যায়। তাই বাইরের স্বীকৃতির চেয়ে নিজের লক্ষ্য এবং মানসিক স্থিরতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর কথায়, ‘খ্যাতি আসে, আবার চলে যায়। কিন্তু তার জন্য যেন মানসিক শান্তি নষ্ট না হয়।’
অভিভাবকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মাধবন। তাঁর মতে, সন্তানের উপর নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন চাপিয়ে দেওয়ার বদলে, সে কোন কাজে আনন্দ খুঁজে পায় এবং কোন লক্ষ্যের জন্য পরিশ্রম করতে প্রস্তুত, সেটাই বোঝার চেষ্টা করা উচিত। পড়াশোনার নম্বর গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তার চেয়ে বেশি জরুরি অধ্যবসায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি দায়বদ্ধতা। পর্দার ফরহান একদিন নিজের স্বপ্নকে বেছে নেওয়ার সাহস পেয়েছিল। বাস্তবের আর মাধবনও যেন সেই একই বার্তাই পৌঁছে দিতে চান- সাফল্যের আসল মূল্য খ্যাতিতে নয়, নিজের লক্ষ্যকে সততা আর নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করার মধ্যে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *