শিকড়ের টানে মাতৃভাষার লড়াইয়ে রাজবংশী ছবি ‘ডাউকি’
একটি ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে তার সঙ্গে অদৃশ্য হতে থাকে সেই ভাষার ইতিহাস,সংস্কৃতি ও সেই জনজাতির আত্মপরিচয়।সেই পুরনো শিকড়কে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার গল্প নিয়েই আসছে রাজবংশী ভাষার স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘ডাউকি’।অঙ্কিত বাগচীর প্রযোজনায় ও শৌভিক পন্ডিতের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবি কেবল বিনোদনের জন্যই নয়,তা মাতৃভাষার ও নিজস্ব সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক আন্তরিক প্রয়াস।
ছবির মূল চরিত্র একজন রাজবংশী কবি। নিজের মাতৃভাষায় কবিতা প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁকে বহু বাধা ও অবহেলার মুখোমুখি হতে হয়।তাঁর এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই উঠে আসে রাজবংশী ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার বৃহত্তর সংগ্রাম।একই সঙ্গে তিনি তাঁর মেয়েকে শোনান রাজবংশী পুরাণ,লোককথা ও ঐতিহ্যের গল্প।হারিয়ে যেতে বসা ‘তিস্তা বুড়ির পুজো’ ও ‘মেচেনি খেলা’র মতো প্রাচীন প্রথার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেন নতুন প্রজন্মকে।উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে চিত্রায়িত হয়েছে ছবিটি।গবেষক দীনেশ চন্দ্র রায় ও সঙ্গীতশিল্পী দীপ্তি রায় সহ তুকখা অ্যাকাডেমির শিল্পীদের সহযোগিতায় ছবিটি নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন লোকশিল্পী অনিন্দিতা রায়। তাঁর গানের দল এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ।


ছবিতে অভিনয় করছেন পরিমল রায়,রিনা রায়,শ্রেয়সী রায়,বাপি রায় সহ একাধিক রাজবংশী শিল্পী।চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন কল্পতরু জানা।পাশাপাশি সুবীর রায়,রাজেশ রায়,সংঘমিত্রা রায় ও প্রসেনজিৎ বর্মনের মতো বহু শিল্পীর আন্তরিক সহযোগিতা ও নিষ্ঠা ছবিটিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।রাজবংশী ভাষায় ‘ডাউকি’ শব্দের অর্থ ‘ডাহুক পাখি’।বিলুপ্তপ্রায় সেই পাখির মতোই আজ অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে বহু প্রাচীন ভাষা ও সংস্কৃতি।সেই লড়াইয়েরই প্রতীক হয়ে উঠছে ‘ডাউকি’।একজন মানুষের গল্পের ভেতর দিয়ে গোটা একটি জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও আত্মপরিচয় বাঁচিয়ে রাখার অদম্য চেষ্টার কথা বলবে এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি।খুব শিগগিরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাত্রা শুরু করতে চলেছে ‘ডাউকি’।
