‘পুরুষকেন্দ্রিক ছবি এলে মেল সেন্ট্রিক বলি না, নারীদের ক্ষেত্রে ফিমেল সেন্ট্রিক তকমা কেন?’ প্রশ্ন হুমা-সাকিবের

0



অ্যাকশন ,থ্রিল ও নারীচরিত্রের নতুন সংজ্ঞা নিয়ে হুমা কুরেশি অভিনীত সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বেবি ডু ডাই ডু’। ৩ জুলাই মুক্তি পাওয়া এই থ্রিলার গল্পের সঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল আলিয়া ভাট অভিনীত ‘আলফা’ও। তবে গল্প আলাদা হলেও দুটি ছবিই ছিল নারীকেন্দ্রিক। যদিও  ‘বেবি ডু ডাই ডু’-এর নির্মার্তারা তাঁদের ছবিকে নারীকেন্দ্রিক ট্যাগ দিতে একেবারে নারাজ।তবে ছবি মুক্তির আগে একটি ছবিকে নিয়ে যে উত্তেজনা ও প্রচারকার্য শুরু হয় তাঁর থেকে দশ হাত দূরেই ছিল ‘বেবি ডু ডাই ডু’ ছবির টিম। তবে মুক্তির পর থেকেই একের পর এক শহরে ঘুরে নিজেদের ছবির অভিজ্ঞতা দর্শকের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি ও ছবির অভিনেতা তথা প্রযোজক সাকিব সালিম ।সম্প্রতি,কলকাতায় এসে নিজেদের নতুন ছবি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি ও তাঁর ভাই  সাকিব সালিম।তবে শুধু ছবির গল্প নয়,ছবিতে নারী চরিত্রের উপস্থাপন ,সেই ছবিকে ‘ফিমেল-সেন্ট্রিক’ তকমা এবং মূলধারার সিনেমায় নারীদের জায়গা নিয়েও স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন তাঁরা।

ছবিটিকে নারীকেন্দ্রিক ছবি বলতে প্রথম থেকেই নারাজ হুমা।তিনি বলেন,”এটা খুব লেয়ার্ড চরিত্র। সিনেমায় নারীদের একমাত্রিক উপস্থাপন আমার ভীষণ অপছন্দ। বাস্তবে নারীরা অনেক বেশি জটিল এবং সূক্ষ্ম। গোটা কেরিয়ারেই আমি এমন চরিত্র খুঁজেছি, যেখানে একজন নারীকে জীবন্ত ও বিভিন্নরকম ভাবে তুলে ধরা হয়। একজন নারী শুধু পুরুষ নায়কের গল্পের অংশ নয়, শুধু ভিক্টিমও নয়। নারীদের দেওয়ার আছে আরও অনেক কিছু।”তিনি জানায়,মূলধারার বিনোদনের মোড়কে এমন একটি ছবি তাঁরা দর্শকের সামনে তুলে ধরতে পেরেও গর্বিত।হুমার বিশ্বাস,এই ছবি ঠাম্মা,মা থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম সব বয়সের দর্শকেরই ভাল লাগবে।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম ‘বেবি করমরকর’,যার চরিত্রে রয়েছেন অভিনেত্রী হুমা কুরেশি।তবে এই চরিত্রে তিনি একজন বধির ও মূক নারী গুপ্তঘাতক।এই প্রসঙ্গে হুমার বক্তব্য, “আমাদের সমাজে নারীদের অনেক সময় নীরব করে দেওয়া হয়।সেই ভাবনারই প্রতিফলন রয়েছে চরিত্রটিতে।তবে আমরা কোনও ডকুমেন্টারি বানাইনি।এই ভাবনাগুলোকে মূলধারার বিনোদনের মধ্যেই তুলে ধরেছি। এই মেয়েটির নীরবতা তাঁর  দুর্বলতা নয়,বরং সেটাই তাঁর সুপারপাওয়ার।”হুমা জানান,সব ছবিতে মেয়েদের ‘ইস্যু’ হিসাবে তুলে ধরতে হবে এমন কোনও কথা নেই।একটি মেয়েকে ছবি তৈরি করলেও সেই ছবির গল্পেরও যথেষ্ট গুরুত্ব থাকা উচিত।

পাশাপাশি ‘ফিমেল-সেন্ট্রিক’ তকমা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তাঁর ভাই সাকিব সালিম।তিনি বলেন,”মেয়েরা মজা করতে পারে না? নায়িকা হতে পারে না? বড় হতে গিয়ে দেখেছি আমার পাশের বেশিরভাগ হিরোরা কিন্তু নারী কিন্তু সিনেমায় তারা কেন্দ্রীয় জায়গা পায় না। এই গল্পে আমরা দেখাতে চেয়েছি এক মেয়ে কথা বলতে পারে না,কিন্তু তার নীরবতা দুর্বলতা নয় ওটাই সুপারপাওয়ার।আর ফিমেল-সেন্ট্রিক ট্যাগটারও তো একটু বদল দরকার। পুরুষ-হিরোর ছবি এলে কি বলি মেল-সেন্ট্রিক? শুধু সিনেমাই বলি।তাহলে ‘ফিমেল সেন্ট্রিক’ কেন?ভাল বা খারাপ সেভাবেই বিচার করা উচিত।”সাকিব জানায়,তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি কোনও লিঙ্গ বিভাজন না করে একটি প্রকৃত ছবি তৈরি করা।  

ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্ব সামলেছেন সাকিব সালিম। তিনি জানান,ছবিটি শুধুমাত্রই নারীকেন্দ্রিক পরিচয় পাক তা তিনি একেবারেই চান না।তাঁর মতে,এটি একটি টানটান থ্রিলার,যেখানে প্রধান চরিত্র একজন নারীর।সাকিব জানান,এই ছবিতে ‘আলফা কিউ’ নামে একটি ডিস্কো ড্যান্সারের চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে।সেই চরিত্র নিয়ে সাকিব জানান,কোনও পুরুষ আলফা হলেই তাঁকে একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ রূপ বা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে হবে এমন নয়। তাঁর কথায় ,”কোনও পুরুষ আলফা হলেই তাঁকে গম্ভীর বা ভয়ঙ্কর হতে হবে কেন?আর আইটেম ডান্স শুধু মেয়েরাই করবেন কেন? ছেলেরা  কেন অবজেক্টিফাই হবে না?  সেই ভাবনা থেকেই এই চরিত্রের জন্ম।তবে এটা প্রতিবাদ নয়, বরং একটা নতুনত্ব দেখানো।”

উল্লেখ্য,নচিকেত সামন্ত পরিচালিত একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার  ‘বেবি ডু ডাই ডু’।ছবিটি মূলত অ্যাকশন,ড্রামা এবং রহস্যের মিশেল।এই ছবির প্রযোজনা করেছেন হুমা কুরেশি ও সাকিব সালিম নিজেই।সিনেমায় হুমা কুরেশি ও সাকিব সালিমের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সিকান্দর খের, চাঙ্কি পান্ডে-সহ আরও অনেকে।একজন সাইলেন্ট কিলারের গল্পকে কেন্দ্র করেই এগোয় ছবির গল্প।মুক্তির পরই দর্শকের ইতিবাচক মতামতই অর্জন করেছেন ছবিটি।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *