রাজেশ খান্নার সঙ্গে সম্পর্ক, তারপরেও সোবার্সের প্রেমে পড়েন অঞ্জু মহেন্দ্র,বাগদান হয়েও ভেঙে যায় বিয়ে
ক্রিকেটের এক স্বর্ণযুগের অবসান।৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স।তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ক্রিকেট বিশ্ব।ব্যাট হাতে পাহাড়প্রমাণ রান,বল হাতে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করা,আবার ফিল্ডিংয়েও অসাধারণ দক্ষতা।ক্রিকেটের প্রতিটি বিভাগেই তিনি ছিলেন অনন্য।কিন্তু মাঠের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অধ্যায় একসময় সমানভাবে শিরোনাম কেড়েছিল।তাঁর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী অঞ্জু মহেন্দ্রুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক।
ষাটের দশকের শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ভারত সফরের সময় এক বন্ধুর বাড়ির পার্টিতে অঞ্জু মহেন্দ্রুর সঙ্গে গ্যারি সোবার্সের পরিচয় হয়।অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক গভীর হয় এবং আংটি বদল করে বাগদানও সারেন দুজনে।ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দেশেই সেই সম্পর্ক নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়।সেই সময় একইসঙ্গে অঞ্জু মহেন্দ্রু বলিউডের প্রথম সুপারস্টার রাজেশ খান্নার সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ছিলেন।তবে বলা হয় অঞ্জুর প্রথম প্রেম ছিল রাজেশ খান্না।থিয়েটারে কাজ করতে গিয়েই রাজেশ ও অঞ্জুর প্রেমের শুরু।অনেকেই মনেই করেন তাঁদের বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ গ্যারি সোবার্স।তবে বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী,পরবর্তীতে সোবার্সের সঙ্গে অঞ্জুর ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়।যদিও অঞ্জুর সঙ্গে বাগদান হওয়ার পরেই নিজের দেশে ফিরে যান সোবার্স। দূরত্ব এবং পারিবারিক আপত্তির কারণে শেষমেশ তাঁদের সম্পর্ক পূর্ণতা পায় না।
পরে ১৯৬৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার এক নারী প্রু কার্বিকে বিয়ে করেন সোবার্স।বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি,বিয়ের আগে তিনি চিঠি লিখে অঞ্জুর সম্মতি চেয়েছিলেন এবং অঞ্জুও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।অন্যদিকে, রাজেশ খান্নার সঙ্গেও তাঁর বিচ্ছেদের পর ১৯৭৩ সালে তিনি অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়াকে বিয়ে করেন।
উল্লেখ্য,গ্যারি সোবার্স নিজের ক্রিকেটজীবনে যথেষ্ট সমৃদ্ধ।৯৩টি টেস্টে ৮,০৩২ রান,২৩৫ উইকেট,১৯৫৮ সালে অপরাজিত ৩৬৫ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস এবং এক ওভারে ছয় ছক্কার নজির,সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ সম্মানের নাম রাখা হয়েছে ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’।গ্যারি সোবার্স আজ আর নেই।কিন্তু ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে ।মাঠে তাঁর এই অসাধারণ কৃতিত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
