‘একটা গান আমার আদর্শ ঠিক করে না’, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ গান ঘিরে চর্চায় রাজকুমার

0


নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও।সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি ছাত্রদের সমর্থনও করেন।কিন্তু তাঁর পর থেকেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও। গত বছর প্রকাশিত ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ গানে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে এক নেটিজেনের সমালোচনার মুখে পড়েন অভিনেতা। জবাব দিয়েও অভিনেতার করা একটি মন্তব্য তিনি নিজেই মুছে দেন। তবে তার আগেই সেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী এমন লিখেছিলেন অভিনেতা রাজকুমার রাও?

ঘটনার সূত্রপাত রাজকুমারের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মন্তব্য বিভাগে।নিট আন্দোলন নিয়ে তাঁর পোস্টের নীচে এক নেটিজেন লেখেন,”আপনার প্রতি আমার অনেক সম্মান ছিল। কিন্তু একটি প্রচারমূলক গানে অংশ নিয়ে আপনি সেই সম্মান হারিয়েছেন। আমি আপনার কোনও ছবিই মিস করতাম না। ভাবিনি এত সহজে নিজেকে বিক্রি করে দেবেন। আপনার নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।”



উত্তরে রাজকুমার লেখেন, “আমি কখনও নিজের আত্মা বিক্রি করতে পারি না। একটি গান আমি কে, কীসের পক্ষে দাঁড়াই বা জীবনে আমার আদর্শ কী, তা নির্ধারণ করে না। তুমি কখনও সেই চাপটা জানতে পারবে না। আমি সব সময় সঠিকের পাশে দাঁড়াই এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পক্ষেই বিশ্বাস করি। যতদিন আমার বিবেক পরিষ্কার থাকবে এবং আমি নিজের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাব, ততদিন অন্য কিছু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তাঁরা জানেন আমি কেমন মানুষ। আশা করি একদিন তোমার সম্মানও ফিরে পাব। তোমার জীবনের জন্য শুভকামনা রইল। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।”

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মন্তব্য মুছে দেন অভিনেতা। যদিও তার আগেই মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে একাধিক সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে। বিশেষ করে “তুমি কখনও সেই চাপটা জানতে পারবে না”এই লাইনটিকে ঘিরে নেটিজেনদের একাংশের দাবি, রাজকুমার হয়তো ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ গানে অংশ নেওয়ার সময় কোনও ধরনের চাপের মুখে পড়েছিলেন।যদিও রাজকুমার কোথাও স্পষ্ট করে বলেননি যে তাঁকে জোর করে বা চাপ দিয়ে ওই গানে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।


বুধবার নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থনে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন রাজকুমার রাও। সেখানে তিনি লেখেন, “যখন তরুণদের মনে হয় তাদের কথা কেউ শুনছে না, তখন সমাজের দায়িত্ব তাদের কথা শোনা। প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর মর্যাদা, ন্যায্যতা ও সম্মানের সঙ্গে শোনা উচিত। একইসঙ্গে শান্তিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যে কোনও পক্ষের হিংসাই ক্ষত আরও গভীর করে এবং সমাধান থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়। এখন প্রয়োজন সংলাপ ও সহমর্মিতা।”তিনি আরও লেখেন, “পড়ুয়াদের দায়িত্বশীলভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে দিন। প্রশাসনও সহানুভূতি, স্বচ্ছতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের কথা শুনুক। স্থায়ী পরিবর্তন সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। আমাদের সকলের লক্ষ্য একটাই দেশের উন্নতি। আর সেই উন্নতির ভিত্তি একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থা।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *