সাডেন ডেথে শাপমোচন বিশালের, ডুরান্ড কাপে ৯-৮ ব্যবধানে জয়ে সেমিফাইনালে মোহনবাগান

0



রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে জামশেদপুর এফসিকে টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করল সবুজ-মেরুন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ ব্যবধানে। এরপর টাইব্রেকারেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথম আট শটে দু’দলের স্কোর ৮-৮। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে। আর সেখানেই নায়ক হয়ে উঠলেন বিশাল কাইথ। জামশেদপুরের শেষ শট আটকে দিয়ে দলকে জয়ের সুযোগ করে দেন বাগান গোলকিপার। পরের শটে গোল করে ৯-৮ ব্যবধানে মোহনবাগানকে সেমিফাইনালে তোলেন অভিষেক সিং।
অথচ ম্যাচের শুরুটা ছিল সবুজ-মেরুনের পক্ষেই। ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটের মাথায় জামশেদপুরের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন সাহাল আবদুল সামাদ। ড্রাজিচের প্রেসিংয়ে বল হারায় জামশেদপুর। সেই বল ছিনিয়ে নিয়ে সাহালের দিকে বাড়ান ড্রাজিচ। সামনে গোলকিপারকে একা পেয়ে কোনও ভুল করেননি সাহাল। ডুরান্ড কাপে এটা তাঁর পঞ্চম গোল। দ্রুত গোল পেয়ে মোহনবাগান সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, ব্যবধান আরও বাড়বে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং গোলের একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করতে থাকে মোহনবাগান। মনবীর সিং, ডেজান ড্রাজিচ ও লিস্টন কোলাসোরা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। পাল্টা আক্রমণে জামশেদপুরও বিপদ তৈরি করে। আমন সি কে-র একটা প্রচেষ্টা বাঁচিয়ে দেন বিশাল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষদিকে সেই বিশালই ভুল করে বসেন। রাশিথোইয়ের দূরপাল্লার শট ঠিকমতো সামলাতে না পারায় ফিরতি বলে গোল করে জামশেদপুরকে সমতায় ফেরান দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর। বিরতিতে স্কোর ১-১।
দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা বদলায়নি। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মোহনবাগান। ড্রাজিচের হেড, ম্যাকলারেনের সুযোগ-কিছুই জালে জড়ায়নি। পেনাল্টির দাবিও ওঠে, কিন্তু মেলেনি সাড়া। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়নি। এরপর শুরু হয় টাইব্রেকারের নাটক। একের পর এক শটে গোল করতে থাকে দু’দল। ৮-৮ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানেই নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন বিশাল। জামশেদপুরের লামসানজুয়ালার শেষ শট রুখে দিয়ে মোহনবাগানের জয়ের রাস্তা খুলে দেন তিনি। পরের শটে গোল করেন অভিষেক সিং। শেষ পর্যন্ত ৯-৮ ব্যবধানে জয়, আর ডুরান্ডের শেষ চারে সবুজ-মেরুন।
তবে সেমিফাইনালে ওঠার স্বস্তির মধ্যেও চিন্তা থাকছে। গোলের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারা ফের প্রশ্ন তুলেছে মোহনবাগানের আক্রমণভাগ নিয়ে। নকআউটের পরের লড়াইয়ে এই সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতেই হবে সবুজ-মেরুনকে।
ছবি সৌজন্যে মোহনবাগান (Mohunbagan Super Giant Facebook)

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *