ব্রাজিলের সামনে জাগবে কি ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ ভারত?

0



ফুটবলের মক্কা কলকাতা। আর সেই শহরের যুবভারতীতে শনিবার যখন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল নামবে, তখন শুধু একটি ম্যাচ হবে না। ভারতীয় ফুটবলের সামনে খুলে যাবে নিজেদের পরিচয় নতুন করে জানানোর এক বিরাট মঞ্চ। বহুদিন ধরেই ভারতীয় ফুটবলকে বলা হয় ‘ঘুমন্ত দৈত্য’। বিশ্বফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দলের সামনে সেই দৈত্য কি এবার জেগে উঠবে? উত্তরটা মাঠেই মিলবে। তবে তার আগে ভারতীয় শিবিরের বার্তা স্পষ্ট-ভয় নয়, লড়াই।
ব্রাজিলের নাম শুনে রাতের ঘুম উড়ে যাওয়ার প্রশ্নই নেই খালিদ জামিলের। বরং তাঁর ভাবনায় রয়েছে কী ভাবে দলের প্রতিটি ফুটবলার নিজের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করবেন। ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় কোচ বুঝিয়ে দিলেন, প্রতিপক্ষ যত বড়ই হোক, মাঠে নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। রক্ষণ সামলে সুযোগ বুঝে আক্রমণে ওঠাই হতে পারে ভারতের অস্ত্র। ‘চাপ থাকবে। ভয়ও থাকবে। কিন্তু সেই চাপ সামলাতে হবে। যে ফুটবলারকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাকে সেটাই করতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিতে হবে’- খালিদের কথায় ছিল সেই বাস্তবতারই ছাপ। ব্রাজিলের শক্তি নিয়ে তাঁর কোনও সংশয় নেই। আক্রমণ থেকে রক্ষণ- প্রতিটি বিভাগেই বিশ্বমানের ফুটবলার। শুধু একজনকে আটকানোর পরিকল্পনা করে এই দলকে থামানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন ভারতীয় কোচ।


পানামার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে ভারত যে লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে পানামা আর ব্রাজিল এক নয়। আনোয়ার আলিও সেটা জানেন। ভারতীয় রক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখের সামনে শনিবার কঠিন পরীক্ষা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মতো তারকাদের আটকানোর দায়িত্ব থাকবে তাঁর কাঁধে। অথচ ভয় নয়, নিজের দায়িত্ব নিয়েই ভাবছেন আনোয়ার। তাঁর বক্তব্য, কোচের পরিকল্পনা মেনে প্রত্যেককে নিজের ১০০ শতাংশ দিতে হবে। সুযোগ এলে নিজেও গোল করতে চান তিনি। ম্যাচের আগের দিন যুবভারতীতেও খালিদের অনুশীলনে ছিল পরিকল্পনার ছাপ। রক্ষণকে সংগঠিত রেখে দ্রুত আক্রমণে ওঠার প্রস্তুতি হয়েছে। কারণ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শুধু রক্ষণ করে টিকে থাকা সম্ভব নয়, আবার অতি আক্রমণাত্মক হয়ে জায়গা ছেড়ে দেওয়াও বিপজ্জনক।  বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে ভারতের আরও একটি বড় পরীক্ষা হবে মানসিক শক্তির। ফিফা ক্রমতালিকায় দুই দলের মধ্যে ব্যবধান বিশাল। ব্রাজিলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো, মারকুইনহোসদের মতো
ব্রাজিল এ দেশে শুধু একটি জাতীয় দল নয়, কয়েক প্রজন্মের ফুটবল-স্বপ্ন। পেলে, জিকো, রোমারিও, বেবেতো, রোনাল্ডিনহো, রোনাল্ডো- নামগুলো ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে। সেই ব্রাজিল যখন প্রথম বার সিনিয়র জাতীয় দল নিয়ে কলকাতার ফুটবলের মক্কায়, তখন ভারতের সামনে সুযোগটা তাই আরও বড়।
শনিবার যুবভারতীর গ্যালারি হলুদে ঢেকে যাবে। কিন্তু খালিদরা জানেন, ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে সব সময় বড় নামের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন বড় মঞ্চে বড় সাহস। ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ ভারত সত্যিই জাগছে কি না, তার উত্তর দেবে যুবভারতীর সবুজ মাঠ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *