বিগ বসের গলার স্বরটা কার? এতদিনের রহস্য ফাঁস করলেন খোদ ‘বিগ বস’!
বিগ বসের মুখ নেই, কিন্তু তাঁর গলার স্বরেই যেন গোটা ঘরটা থমকে যায়! কখনও সেই কণ্ঠে আসে নির্দেশ, কখনও সতর্কবার্তা, আবার কখনও নিঃশব্দ রাতের আগে প্রতিযোগীদের জন্য ভেসে আসে শুভরাত্রি। বছরের পর বছর দর্শকের মনে ছিল একটাই প্রশ্ন-এই অদৃশ্য কণ্ঠের নেপথ্যে কে? ‘বিগ বস বাংলা’র নতুন মরশুম শুরু হতেই সেই রহস্যের দরজা খুলে দিলেন স্বয়ং সেই কণ্ঠের মানুষ। দীর্ঘদিনের জল্পনায় ইতি টেনে নিজের পরিচয় প্রকাশ্যে আনলেন বাচিকশিল্পী ও অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, ‘বিগ বস বাংলা’র প্রথম ও দ্বিতীয় মরশুমে, অর্থাৎ ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে, ‘বিগ বস’-এর কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল তাঁরই গলা।
এতদিন কেন চুপ ছিলেন সোহন? তাঁর বক্তব্য, ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া কাউকেই সরাসরি বিষয়টি জানাননি। কোনও লিখিত গোপনীয়তার চুক্তি ছিল না, তবু নিজের পরিচয় আড়ালেই রেখেছিলেন। তবে প্রথম দুই মরশুমের প্রতিযোগীরা অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে দেখে ফেলায় ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কানাঘুষো শুরু হওয়া স্বাভাবিক ছিল। অনেকেই তাই আন্দাজ করতেন, রহস্যময় সেই কণ্ঠের নেপথ্যে রয়েছেন সোহনই। তবে এবার ছবিটা অন্য। প্রায় এক দশক পর ‘বিগ বস বাংলা’ ফিরলেও সোহন আর নেই সেই ভূমিকায়। নিজের সমাজ মাধ্যম পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, নতুন মরশুমের জন্য প্রযোজনা সংস্থা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তাঁকে ফের এই চরিত্রে চেয়েওছিল তারা। কিন্তু মাঝের এত বছরে তাঁর কাজের পরিধি, পারিশ্রমিকের দাবি এবং পারিবারিক পরিস্থিতিতে বদল এসেছে। দুই পক্ষের আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও সবকিছু একসঙ্গে মেলেনি। শেষ পর্যন্ত নিজের অত্যন্ত প্রিয় কাজটিকে এ বার না বলতে হয়েছে তাঁকে।
অর্থাৎ, নতুন মরশুমে ‘বিগ বস’-এর গলায় আর শোনা যাচ্ছে না সোহনের সেই পরিচিত ভারী স্বর। তাঁর জায়গায় অন্য এক শিল্পী এই চরিত্রে বাচিক অভিনয় করছেন। তবে সেই শিল্পী ঠিক কে, তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি নির্মাতা বা চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। পুরনো রহস্যের সমাধান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নতুন রহস্যের জন্মও হয়ে গেল একই সঙ্গে। ২০১৩ ও ২০১৬-র অদৃশ্য ‘বিগ বস’ যে সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটা অবশেষে জানা গেল। কিন্তু ২০২৬-এর ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে যে গলা শুনে প্রতিযোগীদের দিন শুরু হচ্ছে, নির্দেশ আসছে, টাস্কের ঘোষণা হচ্ছে-সেই গলার মালিক কে? উত্তরটা আপাতত গোপনই থাকছে।
ছবি সৌজন্যে সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক (Photo courtesy: Sohan Bandyopadhyay Facebook)
