বড় পর্দায় অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজের জীবন,
নতুন বায়োপিকের ঘোষণা শুভেন্দু ঘোষের
টানটান অ্যাকশন, থ্রিলার কিংবা মেগাবাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজির দাপটের মাঝেও ভারতীয় সিনেমার শীর্ষে বারবার জায়গা করে নিয়েছে বাস্তব জীবনের গল্প। ‘টুয়েলভ ফেল’-এ মনোজ কুমার শর্মার জীবনসংগ্রাম,’ভাগ মিলখা ভাগ’-এ মিলখা সিংয়ের ছুটে চলা,’দঙ্গল’-এ মহাবীর সিং ফোগাট ও তাঁর মেয়েদের লড়াই কিংবা ‘সরদার উধম’-এ স্বাধীনতা সংগ্রামের অধ্যায়।বাস্তবের মানুষই বারবার হয়ে উঠেছেন পর্দার নায়ক। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নজির আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বিশ্বজুড়ে ২,০০০ কোটিরও বেশি ব্যবসা করে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি ছবি হিসেবে রেকর্ড গড়ে রেখেছে। এ বার সেই বায়োপিকের জগতেই আসতে চলেছে এক অন্য ধরনের গল্প।যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে এক জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব।বৃন্দাবনের পরিচিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শ্রী অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজকে নিয়ে তৈরি হতে চলেছে নতুন হিন্দি বায়োপিক। ছবির পরিচালনায় শুভেন্দু ঘোষ।
আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস এবং মানুষের সঙ্গে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হতে চলেছে শ্রী অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজের জীবনকাহিনি। বৃন্দাবনের পরিচিত এই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের জীবন ও যাত্রাকেই বড় পর্দার গল্পে পরিণত করতে চলেছেন পরিচালক।বর্তমানে ভারতীয় সিনেমায় পুরাণ, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিকতার বিষয় নিয়ে দর্শকের আগ্রহ নতুন করে সামনে এসেছে।মহারাজের ব্যক্তিগত জীবন, বিশ্বাসে পৌঁছনোর পথ, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, শিক্ষা এবং সমাজে তাঁর প্রভাব সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনচিত্র। অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজকে নিয়ে শুভেন্দু ঘোষের ছবিতেও সেই দিকগুলিই তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রে খবর, আসন্ন ছবিটির চিত্রনাট্যের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে ছবিটি রয়েছে প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে। কাস্টিং, লোকেশন নির্বাচন এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল প্রস্তুতির কাজও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ছবির গল্পে অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজের আধ্যাত্মিক পথচলার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা, জীবনদর্শন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সংযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে
অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজ বর্তমানে শুধু তাঁর ধর্মীয় বার্তার জন্যই পরিচিত এমন নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। ধর্মীয় আলোচনা বা কথকতার সময় তাঁর সহজ-সরল ভাষা, রসিকতা এবং জীবনমুখী পরামর্শের ধরন নেটিজেনদের একাংশের নজর কেড়েছে। তাঁর বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য রিল এবং মিম। আর সেই সোশ্যাল মিডিয়া জনপ্রিয়তার সূত্রেই ভক্ত ও নেটিজেনদের একাংশের কাছে তিনি ‘পুকি বাবা’ নামেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে অবস্থিত ‘গৌরী গোপাল আশ্রম’-এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। সনাতন ধর্মের প্রচারক এবং ধর্মীয় কথক হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। পরিচালকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একজন সাধারণ মানুষ থেকে পরিচিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার যাত্রা, তাঁর বিশ্বাস ও দর্শনের বিকাশ, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁর জীবন থেকে উঠে আসা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে গল্পের পরিসরে তুলে ধরা হবে।
বায়োপিকের ক্ষেত্রে বাস্তব চরিত্রকে পর্দায় তুলে ধরার পাশাপাশি সেই চরিত্রের সময়কাল, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং সামাজিক প্রভাবকেও গল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজের জীবনকেও সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পর্দায় উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য,পরিচালক শুভেন্দু ঘোষ আগেও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন। এ বার হিন্দি ভাষায় তাঁর এই বিশেষ বায়োপিক প্রকল্প। তবে অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজের চরিত্রে কোন অভিনেতাকে দেখা যাবে তা এখনও জানা যায়নি।নতুন এই বায়োপিককে ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বড় পর্দায় অনিরুদ্ধ আচার্য মহারাজের জীবন ও ভাবধারা কতটা নতুনভাবে ধরা দেয়, সেদিকেই নজর দর্শকের।
