‘আড়াই বছরের মেয়েটিকে দেখেছিলাম লাল চোখে…’ ক্যানসারকে হারিয়ে সিনেমায় বিবেকের দত্তক কন্যা
একসময় আড়াই বছরের ছোট মেয়েটিকে কেমোথেরাপির যন্ত্রণা সহ্য করতে দেখেছিলেন বিবেক ওবেরয়। আজ সেই মেয়েই ক্যানসারকে হারিয়ে পা রাখছেন অভিনয়ের জগতে। মঞ্চে সাহারা নিজের প্রথম ছবিতে সই করার মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আবেগে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না অভিনেতা বিবেক ওবেরয়।
মুম্বইয়ে আয়োজিত একটি ক্যানসার সচেতনতা অনুষ্ঠানে নিজের নতুন জীবনের খবর বাবার সঙ্গে ভাগ করে নেন ২২ বছরের সাহারা।ইতিমধ্যেই বিমান চালনার প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন বিবেকের দত্তক কন্যা। লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক বিমান চালক হওয়া। তবে এ বার অভিনয়ের স্বপ্নও পূরণ করতে চলেছেন সাহারা। অনুষ্ঠানের মঞ্চেই ঘোষণা করেন, একটি নেপালি ছবিতে মুখ্য অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন তিনি। ছবিটি আগামী বছর মুক্তি পাওয়ার কথা বলে জানিয়েছেন সাহারা।
বিবেককে ‘দাদা’ বলে ডাকেন সাহারা। তাঁর জীবনে বিবেকের অবদানের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনিও। সাহারার কথায়, অভিনয়, নাচ কিংবা নিজের স্বপ্ন সবকিছুতেই বিবেক তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। সেই সাহসেই তিনি বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছেন।মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে আবেগে জড়িয়ে ধরেন বিবেক। তারপর মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেন,”আমি চাই তুমি তোমার কেরিয়ারে অনেক দূর উড়ে যাও। সিনেমাতেও খুব ভালো করো। তোমার জন্য আমি খুব খুশি। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।”এরপরই ফিরে যান বহু বছর আগের সেই কঠিন সময়ে। মেয়ের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিবেক। তিনি বলেন,”আমি কাঁদছি গর্বে। আড়াই বছরের সেই মেয়েটিকে দেখেছিলাম, লাল চোখ আর ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে কেমোথেরাপির মধ্যে দিয়ে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছে। ওর মধ্যে লড়াইটা আমি দেখেছিলাম। যেভাবে আমার আঙুলটা ধরে রেখেছিল, তখনই বুঝেছিলাম, ও জিতবে।”
বিবেক ওবেরয় আড়াই বছর বয়সে সাহারা শাহকে দত্তক নিয়েছিলেন। বর্তমানে ২২বছর বয়সে সাহারা ক্যানসারমুক্ত। সেই লড়াইয়ের কথা মনে করে বিবেকের গলায় ধরা পড়ে আবেগ। তাঁর কথায়,”আমি ওর জন্য প্রতিদিন প্রার্থনা করতাম। আজ ও ক্যানসারমুক্ত। নিজের পরিশ্রমের ফল পাচ্ছে। আমি ওকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত।” মেয়েকে ভবিষ্যতের জন্য আরও একটি বার্তা দিয়েছেন বিবেক সাফল্য ও আর্থিক স্বাধীনতা পাওয়ার পর যেন সাহারা তাঁর মতোই অন্যদের পাশে দাঁড়ান।
ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ বিবেকের বহুদিনের। নিজের ৫০তম জন্মদিনের পরও এমন ৫০ জন ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
