‘ইস্টবেঙ্গলের উত্থান বাংলা ফুটবলের নতুন জাগরণ’ আইএসএলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কল্যাণ চৌবে

0


২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গলের জাতীয় লিগ জয়, শেষদিন পর্যন্ত টানটান খেতাবের লড়াই, কলকাতা ডার্বির আবেগ আর অনিশ্চয়তার আবহ কাটিয়ে সফল আইএসএল আয়োজন, সব মিলিয়ে সদ্যসমাপ্ত মরশুমকে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা অধ্যায় বলেই মনে করছেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে এই সাফল্যের আড়ালে যে জটিলতা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাকে সরাসরি ‘ম্যানমেড ক্রাইসিস’ বলেই উল্লেখ করলেন তিনি।
কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশীকে হারিয়ে প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ চৌবে বলেন, ‘একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে অনেকেই ভাবছিলেন, এ বছর হয়তো ফুটবলই হবে না।কিন্তু সব বাধা কাটিয়ে আমরা মরশুম শেষ করতে পেরেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।’ গত কয়েক মাস ধরে ভারতীয় ফুটবলে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছিল। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত মামলা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা আইনি সমস্যার কারণে আইএসএল, সুপার কাপ-সহ একাধিক প্রতিযোগিতা নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হয়। তবে কল্যাণ চৌবের দাবি, ফুটবল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কখনওই ছিল না। তাঁর কথায়, ‘এআইএফএফ কখনও বলেনি ফুটবল বন্ধ হয়ে যাবে। গোটা মরশুমে ২১টি টুর্নামেন্ট আয়োজন হয়েছে এবং প্রায় ২১০০টি ম্যাচ হয়েছে। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এটা বড় সাফল্য’। যদিও একইসঙ্গে কিছু বিতর্ক এবং আশঙ্কাকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা’ বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, অনেক সংকটই ছিল মানুষের তৈরি। কিন্তু সেই পরিস্থিতির মধ্যেও আইএসএল সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে বলেই ভারতীয় ফুটবলের সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণিত হয়েছে। তবে শুধু আয়োজন নয়, এবারের আইএসএলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে এআইএফএফ সভাপতিকে। শেষদিন পর্যন্ত ট্রফির দৌড়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মুম্বই সিটি, পাঞ্জাব এফসি এবং জামশেদপুর এফসি। একই সময়ে একাধিক ম্যাচে বদলে যাচ্ছিল সমীকরণ। কল্যাণ চৌবের মতে, আইএসএল শুরুর পর থেকে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মরশুম আগে দেখা যায়নি। বিশেষ করে কলকাতা ডার্বির প্রসঙ্গ আলাদা করে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘কলকাতা ডার্বি বিশ্বের অন্যতম সেরা ডার্বি। এই ম্যাচ ঘিরে কোটি মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ফুটবলের সৌন্দর্যই হল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যদি এক দল বারবার জেতে, তাহলে আকর্ষণ কমে যায়’। সেই কারণেই দীর্ঘদিন পর ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যকে তিনি বাংলা ফুটবলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ঘটনা বলেই মনে করছেন।
গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে লাল-হলুদ শিবিরের উপর চাপ বাড়ছিল। কিন্তু এবার সেই খরা কাটিয়ে ভারতসেরা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কল্যাণ চৌবের মতে, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বাংলা ফুটবলের প্রাণ। যতদিন এই দ্বৈরথ থাকবে, ততদিন ভারতীয় ফুটবলের আবেগও বেঁচে থাকবে। সবশেষে আগামী মরশুম নিয়েও আশার বার্তা দিয়েছেন এআইএফএফ সভাপতি। যদিও আইএসএলের ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং সূচি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবু তাঁর দাবি, আগামী মরশুমে আইএসএল আবারও স্বমহিমায় ফিরবে। আর সেই বার্তাতেই নতুন আশার আলো দেখছেন ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *