‘ফাইল চোর’ স্লোগানে উত্তাল ইমপা,বিক্ষোভের মাঝেই গুরুতর অসুস্থ পিয়া সেনগুপ্ত!
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই চলছিল তরজা।তবে শুক্রবার ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ইমপা)-এর সাধারণ বৈঠক ঘিরে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংগঠনের অফিস। সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, স্লোগান, তুমুল বাদানুবাদ থেকে শুরু করে হেনস্থার অভিযোগ— সব মিলিয়ে একেবারে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় ‘ইমপা’য়। শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে ইমপার অফিস ছাড়তে হয় সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে।
গত কয়েক দিন ধরেই ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ও সংগঠনের একাংশ প্রযোজক-পরিবেশকদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হচ্ছিল। পিয়ার পদত্যাগের দাবিতে সরব ছিলেন শতদীপ সাহা-সহ বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সদস্যরা।কয়েকদিন পরপরই বৈঠক ডাকা হয় ইমপাতে।শুক্রবারের চতুর্থবারের জন্য বৈঠকের ডাক দেন পিয়া সেনগুপ্ত। নির্ধারিত সময়েই ইমপার অফিসে পৌঁছন পিয়া সেনগুপ্ত। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোপাল মদনানি,শতদীপ সাহা, অনুপ সেনগুপ্ত, রতন সাহা ,সমীরণ দাস, মিলন ভৌমিক, অয়ন বোস,কৃষ্ণ দাগা-সহ অনেকে।পিয়ার অভিযোগ, বৈঠকে বহু বাইরের লোকদের অফিসে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।যাঁদের অনেকেই ইমপার সদস্য নন। তিনি বলেন, “এটা কি কোনও তৃণমূল, বিজেপি বা সিপিআইএমের পার্টি অফিস যে বাইরে থেকে লোক এনে হাঙ্গামা হবে?” তিনি আরও বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই কয়েক জন তাঁর দিকে তেড়ে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।এমনকী অফিসের ভিতরে তাঁকে দেখে ‘ফাইল চোর’ স্লোগানও ওঠে বলে অভিযোগ জানান তিনি।এই ঘটনায় পরিচালক অতনু বোসের নামও উল্লেখ করেছেন পিয়া।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ফাইল হাতে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান পিয়া। পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে ইমপার অফিস ছাড়তে দেখা যায়। ঘটনার পর প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, “অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। এবার আমি আইনের পথেই এগোব।আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করব।”পিয়ার বক্তব্য, “যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমি নির্বাচিত হয়েছি, সেই ভাবেই আমাকে সরাতে হবে।এরা পুলিশকেও মানছে না।নিজেদের মতো কমিটি গঠন করলে সেটা মানা হবে না।একটা চেয়ারের জন্য এত লোভ? বাইরে থেকে লোক নিয়ে এখানে রীতিমত ঝামেলার সৃষ্টি করা হয়েছে।১৪৪ ধারা জারির পরও কেউ সেই নিয়ম মানছে না।”
উল্লেখ্য,রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ইমপাকে ঘিরে উত্তেজনা আরও জোরালো হয়েছে। অভিযোগ, ইমপা রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর ঘটনাও সামনে আসে। পাশাপাশি পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম অভিযোগও তুলেছেন বিরোধীরা। যদিও সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন পিয়া।তবে ভবিষ্যতে এই বচসা টা কোনদিকে মোড় নেয়, তা নজরে থাকবে।
