‘আমি বিফ খাই না, অন্য কেউ খেলেও কিছু বলার নেই’,গোমাংস বিতর্কে বিশ্বজিতের পাশে মানসী

0



পাতে গোমাংস, আর তা নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়! বাংলাদেশের খাবার ও আতিথেয়তার প্রশংসা করতে গিয়ে প্রকাশ্যে গোমাংস খাওয়ার কথা বলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর সেই মন্তব্যের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় কটাক্ষ ও সমালোচনা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন অভিনেত্রী মানসী সিনহা এবং অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।সম্প্রতি,এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খুললেন অভিনেত্রী মানসী সিনহা।অভিনেত্রী জানান, তিনি নিজে গোমাংস খান না। তবে অন্য কেউ কী খাবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়।

মানসী সিনহা বলেন,”আমি বিফ খাই না, অন্য কেউ বিফ খেলে তাকে কিছু বলারও নেই আমার। প্রত্যেকে নিজের ব্যক্তিস্বাধীনতা অনুযায়ী খাবার খাবে, জামাকাপড় পরবে, আস্তিক হবে কি নাস্তিক হবে এটা তাঁর সাংবিধানিক অধিকার। সেখানে কেউ ঠিক করে দিতে পারে না যে কী করবে, কী করবে না।”সমালোচনা এবং ট্রোলিংয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা হলে তিনি তার জবাব দিতে প্রস্তুত। কিন্তু অশ্লীল বা কুরুচিকর ট্রোলিংয়ের ক্ষেত্রে উপেক্ষাই সবচেয়ে উপযুক্ত পথ।তিনি জানান, যাঁরা এই নোংরা কাজ করেছেন সেটা তাঁদের শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষা।

মানসী বলেন,”সমালোচনা এক জিনিস আর ট্রোলিং এক জিনিস। সমালোচনা হলে ১০০ বার মুখোমুখি হব। নোংরা ট্রলিং যদি হয়, তাহলে উপেক্ষা করাটাই একমাত্র পথ।”এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বজিতের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে মানসী লিখেছিলেন, “বাংলার সম্মানীয় অভিনেতা শ্রী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে যে বা যারা নোংরা পোস্ট করছে, তাদের ধিক্কার জানাই।” পাশাপাশি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্বজিতের বক্তব্যের জন্য তাঁর ছবি নিয়ে যারা আপত্তিকর পোস্ট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান সুরজিৎ। একইসঙ্গে বাংলার অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরও এই ঘটনার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি।নিজের পোস্টে সুরজিৎ লেখেন,”সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিল্পী, বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী দুই বাংলার একাত্মতা নিয়ে যে কথা বলেছেন এবং গো-মাংস খাওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন, তার জন্য জুতোর মালা পরিয়ে তাঁর ছবি যারা পোস্ট করেছে তারা বাংলার কুলাঙ্গার।”

নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথাও উল্লেখ করেন সুরজিৎ। তিনি জানান, বার দুয়েক ‘বিফ’ রোল খেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ভাল বিফ পেলে আবারও খেতে পারেন। অভিনেতার দাবি, হিন্দু ধর্মের প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে না জেনেই অনেকে বিশ্বজিৎকে আক্রমণ করছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন,”অশিক্ষিত, আকাটগুলো জানে না, হিন্দু ধর্মের নীতি নির্ধারক ঋষি বলে যাঁরা প্রতিভাত, তাঁরা সকলেই যজ্ঞের পর গোমাংস ভক্ষণ করতেন।তাছাড়া এর জবাবদিহি কোনও সমাজবিরোধী, নিরক্ষরদের কাছে করবো না।”

এরপরই বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন অভিনেতা। বিতর্কের মধ্যেও নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকার জন্য বর্ষীয়ান অভিনেতাকে কুর্নিশ জানিয়ে লেখেন, “সাব্বাশ বিশ্বজিৎ দা, তুমি দেখালে মেরুদণ্ড এখনও কোনও কোনও বাঙালির আজও আছে।” এই ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুরজিৎ। তাঁর দাবি, একজন বর্ষীয়ান শিল্পীকে নিয়ে এভাবে কুরুচিকর পোস্ট ছড়ালে অন্য অভিনেতা – অভিনেত্রীদেরও তার প্রতিবাদ করা উচিত। তাঁর মতে, কোনও শিল্পী যদি শুধুমাত্র কারও নির্দেশ বা সুবিধামতো নিজের অবস্থান প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁর শিল্পীসত্তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রসঙ্গেই সুরজিতের কটাক্ষ,”বাবুর ইশারায় তার উঠোনে নাচা ভাড়াটে পারফর্মার বলেই গণ্য করবেন নিজেদের।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *