‘ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ’, দেবের বার্তার পরেও নেটিজেনদের কটাক্ষ ‘খুব তাড়াতাড়ি পোস্ট করলেন দাদা’

0



২৬ দিনের অনশনের ইতি।বৃহস্পতিবার রাতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনশন ভাঙলেন সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক।দিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। সেই সময় বলিউডের একাধিক তারকার পাশাপাশি টলিউডের জিৎ, রূপম ইসলাম-সহ অনেকে প্রকাশ্যে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ালেও নীরব ছিলেন বাংলার সুপারস্টার দেব।তবে ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পরই পড়ুয়াদের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন অভিনেতা। আর তাতেই কটাক্ষের মুখে অভিনেতা। কী বলছেন নেটিজেনরা ?

শুক্রবার রাতের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন দেব। সেখানে তিনি লেখেন, “গত কয়েক দিন ধরে আমি আমাদের দেশের অসংখ্য তরুণ পড়ুয়ার কণ্ঠস্বর গভীরভাবে অনুসরণ করছি, যারা নিজেদের কথা শোনানোর আশায় রাস্তায় নেমেছেন।”এরপর তিনি বলেন, “পড়ুয়ারাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। আর যখন দেশের যুবসমাজ একসঙ্গে নিজেদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরতে বাধ্য হয়, তখন তাদের কণ্ঠস্বর আন্তরিকতা, সহমর্মিতা এবং মর্যাদার সঙ্গে শোনা উচিত।”

কেন্দ্রের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে অভিনেতা লেখেন, “আমি ভারত সরকারের মাননীয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাই পড়ুয়াদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনুন, তাদের সমস্যাগুলি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন এবং দ্রুত ও গঠনমূলক সমাধানের পথে এগিয়ে আসুন।”শুধু পড়ুয়াদের দাবি শোনার আবেদনই নয়, শান্তি, সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখারও আহ্বান জানান দেব। তাঁর কথায়,দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণ প্রজন্ম। তাই বিভাজন নয়, অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমেই ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ খুঁজে নেওয়া উচিত।

তবে দেবের এই পোস্ট সামনে আসতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে। এক নেটিজেন লেখেন, “এতদিন পর চোখ খুলল?” আরেকজনের কটাক্ষ, “খুব তাড়াতাড়ি পোস্ট করলেন দাদা, সব ঠিক হয়ে যাওয়ার পর!” অন্য একজন লেখেন, “শেষমেশ ঘুম ভাঙল!” আবার আরেক নেটিজেনের মন্তব্য, “একটু আগে বললে মনে হয় না বেশি ভালো হতো? তোমার কাছে এই জিনিস কেউ আশা করেনি।” অনেকের মতে, দেরিতে হলেও সংহতির বার্তা নাকি পরিস্থিতি বদলের পর নিরাপদ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা?

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং সরকারের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতেই অনশন ভাঙেন সোনম ওয়াংচুক।এদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে জানান, এটি শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে গভীর অবিচার। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।জানা গিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, নিট পরীক্ষাকে ঘিরে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়েও ভাবা হবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed