‘এটা জেন জি-র জয়’,ধর্মেন্দ্রর ইস্তফায় পড়ুয়াদের পাশে টুইঙ্কল, অক্ষয়কে ঘিরে নেটিজেনদের পাল্টা ‘স্বামীকেও একটু জ্ঞান দিন’

0



নিট পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেন  অভিনেত্রী টুইঙ্কল খান্না। ভিডিয়োতে জেন জি-র সাহস ও প্রতিবাদী মানসিকতার প্রশংসা করে জানান, পরিবর্তন তারাই আনতে পারে, যারা বিশ্বাস করে তারা সমাজে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। তবে তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে চর্চায় উঠে আসে স্বামী অক্ষয় কুমারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকার।

শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিয়ো করে টুইঙ্কল বলেন, “জেন এক্স থেকে জেন জি, আমরা সবাই এক ধরনের বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি। আমাদের শেখানো হয়েছিল, সবকিছু চুপচাপ মেনে নাও, কঠোর পরিশ্রম করো, মাথা নিচু করে নিজের কাজ করে যাও। আমাদের এমনও বোঝানো হয়েছিল যে, শুধু নিজের মতো হওয়া যথেষ্ট নয়, কারও মতো হয়ে ওঠাই আসল।” তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, অন্তত আমাদের প্রজন্মের মহিলারা ঠিক করেছিলাম যে আমরা আমাদের সন্তানদের অন্যভাবে বড় করব। আমরা সেটাই করেছি। তারপর আবার অভিযোগ করেছি যে তারা আমাদের থেকে কত আলাদা। তাঁরা নাকি ফোনে আসক্ত, অলস, সব সময় চাপের কথা বলে। কিন্তু গত এক মাস আমাদের এমন একটা বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছে, যা আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। পরিবর্তন কেবল তারাই আনতে পারে, যারা বিশ্বাস করে যে তারা সত্যিই পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।”

নতুন প্রজন্মের প্রশংসা করে টুইঙ্কল বলেন, “প্রত্যেক বাবা-মায়েরই একটাই স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তান যেন তাদের থেকেও সাহসী ও আরও ভালো মানুষ হয়। আর  সত্যিই তাই হয়েছে। এটা জেন জি-র জয়। আমাদের কাজ ছিল শুধু তাদের বড় করে তোলা, তারপর তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করা। তোমরা যারা তরুণ, এই সাফল্য উদযাপন করো। আর বাড়ি ফিরে তোমাদের মায়েদের আমার পক্ষ থেকেও একটা চুমু দিতে ভুলো না।”

তবে ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায়  তাঁর স্বামী অক্ষয় কুমারকে টেনে কটাক্ষ করতে শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ। মন্তব্যের করে কেউ লেখেন, “এবার এই কথাগুলো আপনার স্বামীকেও বলুন।” কেউ লেখেন, “আগে আপনার স্বামীকে বোঝান।” আবার কেউ লেখেন, “এবার গিয়ে আপনার স্বামীকে একটু সান্ত্বনা দিন।” কেউ লেখেন, “আপনার স্বামীকেও একটু জ্ঞান দিন”, কেউ আবার  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে অক্ষয় কুমারের বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “মোদীর কাছে কীভাবে আম খেতে হয়, সেটা জানতে যিনি এত আগ্রহী ছিলেন, আগে তাঁর সঙ্গেই এই আলোচনা করুন।”

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি  সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। এক ঘন্টার সেই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক প্রশ্ন এড়িয়ে মোদীর ব্যক্তিগত জীবন, দৈনন্দিন অভ্যাস, শখ, ঘুমের সময়, রাগ নিয়ন্ত্রণ, মায়ের স্মৃতি সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তাঁর আলাপচারিতার করে  অক্ষয় কুমার জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর অন্যতম বড় গুণ হল তিনি পরিস্থিতি ও মানুষের সঙ্গে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। তাঁর মতে, শিশুদের সঙ্গে যেমন স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিশে যান, তেমনই ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে সমান স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই আবার বিতর্কের মাঝে অভিনেতা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed