‘নিজের লেখা গল্পই আমার কাছে প্রাধান্য পায়’,সায়েন্স ফিকশনে নিজের দিগন্ত খুঁজছেন অর্ক
গল্প বলা এবং নিজের ভাবনাকে পর্দায় তুলে ধরার ইচ্ছে ছিল বরাবরই। গান তৈরি, গল্প লেখা, মিউজিক ভিডিয়ো এবং ডেইলি সোপের কাজ পেরিয়ে সেই ইচ্ছেই তাঁকে নিয়ে এসেছে বড় পর্দায়। প্রথম ছবি ‘পয়লা বৈশাখ’-এর হাত ধরে পরিচালনায় পা রাখা অর্ক দাশগুপ্ত এ বার আরও বড় পরিসরে সায়েন্স ফিকশনের গল্প নিয়ে হাজির হতে চলেছেন।চলতি বছরের শেষে মুক্তি পাবে তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘ভবিষ্যতের খোঁজে’।
তাঁর প্রথম ছবি ‘পয়লা বৈশাখ’-এর মাধ্যমে সায়েন্স ফিকশনকে বাংলা দর্শকের সামনে তুলনামূলক সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন অর্ক। তবে দর্শকের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখে নয়, বরং নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ছবিটি তৈরি করেছেন বলে জানালেন পরিচালক।তাঁর কাছে ছবির সাফল্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজের ভাবনাকে ঠিকভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। অর্কের কথায়, “একজন পরিচালক হিসাবে যেটা দেখাতে চাইছি, সেটা দেখাতে পারছি কিনা-সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সেই পথেই আরও একধাপ এগিয়ে ‘ভবিষ্যতের খোঁজে’। সম্পূর্ণ সায়েন্স ফিকশন ঘরানার এই ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে অন্যগ্রহকে কেন্দ্র করে একদল বাঙালির জীবনকে ঘিরে।পরিচালকের মতে তাঁর প্রথম ছবির তুলনায় অনেক বড় স্কেলে তৈরি হয়েছে ছবিটি। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেনচন্দন সেন।এছাড়াও সুদীপ মুখোপাধ্যায়, গৌতম হালদার, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়,রোশনি, স্নেহম মুখোপাধ্যায়, চৈতি দাসগুপ্ত এবং পুষান দাসগুপ্ত রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। ছবির বিভিন্ন সেট তৈরিতেই লেগেছে পাঁচ-ছয় মাসের মতো সময়। ফলে সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প ও পরিসরে কাজ করার অভিজ্ঞতাও পরিচালকের কাছে ছিল নতুন।তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য,”অন্য কারও গল্পের সঙ্গে একাত্ম হতে পারব না। নিজের করা গল্পই আমার কাছে বেশি প্রাধান্য পায়।”
পরিচালনার পাশাপাশি অর্কের শুরু থেকেই সঙ্গী সঙ্গীত। বাংলা রক ব্যান্ড ‘জুলিয়ান ১৩’-এর সদস্য তিনি। ব্যান্ডে ভোকালিস্ট চৈতি দাসগুপ্ত, ড্রামার ইভান গুহ রায় এবং গিটারিস্ট দ্বৈপায়ন হালদারের সঙ্গে কাজ করছেন অর্ক। গান লেখা, গিটার বাজানো এবং সুর করার পাশাপাশি তাঁর দুই ছবিরই সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ‘জুলিয়ান ১৩’। পপ, জ্যাজ, ফিউশন-সহ বিভিন্ন ঘরানার সঙ্গীত নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আছে বলেই জানিয়েছে অর্ক দাশগুপ্ত। ইতিমধ্যেই ব্যান্ডের নতুন গান ‘সমাপ্ত’ মুক্তি পেয়েছে, শীঘ্রই আসছে ‘অনুভব’। পাশাপাশি আরও দু’টি অ্যালবাম প্রকাশের অপেক্ষায়।
পরিচালনায় আসার প্রসঙ্গে অর্কের কথায়, “পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম এমনটা নয়, কিছুটা হঠাৎ করেই। তবে সিনেমা বানানোর একটা ইচ্ছে ছিলই।” নিজের লেখা গল্পকেই পর্দায় রূপ দেওয়ার তাগিদ থেকেই তাঁর পরিচালনায় আসা। তিনি যে ধরনের সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, সেই ধরনের ছবি বাংলায় তৈরি করার ইচ্ছাও তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।তবে পরিচালকের পরবর্তী পরিকল্পনা শুধু সায়েন্স ফিকশনেই আটকে নেই।উল্লেখ্য,’পয়লা বৈশাখ’ থেকে যাত্রা শুরু হলেও ‘ভবিষ্যতের খোঁজে’, ‘ইন দ্য বক্স’ এবং ‘রকেট’-এর হাত ধরে সেই যাত্রাই এবার আরও বিস্তৃত হতে চলেছে।
